রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পত্নীতলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন
পত্নীতলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী অসহায় পরিবার সরকারি সহযোগিতার অনুদান কামনা করছেন।


স্থানীয় এলাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে। অনেক স্থানে টিনের ঘরের চাল উড়ে যায় এবং বড় বড় গাছ উপরে সড়কের উপর পড়ে যোগাযোগ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি, বৈদ্যুতিক খুঁটির তাঁর ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে রাতভর দুর্ভোগকে পড়েন সাধারণ মানুষ।


রোববার (১৭ মে) সকালে পত্নীতলা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীদের সড়কের উপর গাছ উপড়ে যাওয়া ও ডাল ভেঙে যাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাছ অপসারণ করতে দেখা যায়। 


এছাড়াও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নজিপুর অফিসের  লাইনম্যান ও কর্মীরা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে নিরলস ভাবে কাজ করছে। 


উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন মধ্যে বোরো ধান ওর সবজি ক্ষেতের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কৃষকরা জানান, মাঠে থাকা পাকা ধান ঝড় ও বৃষ্টিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এছাড়া কলাবাগান চাষিরাও  ক্ষতির মুখে পড়েন। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক চাষী।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে প্রবল ঝড় শুরু হয়। দমকা হওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টি থাকায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ভয়ভীতির মধ্যে রাত কাটিয়েছে।


এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষে।


পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাইমিনুল ইসলাম ‘সোনার দেশ’কে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে।’


পত্নীতলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মনসুর আলী (অ:দা:) ‘সোনার দেশ’কে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী  পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি অনুদানের জন্য বরাদ্দ সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।’


এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত রোববার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুর্যোগ কবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল ছিলো। তবে কোন কোন এলাকায় পরীক্ষা মূলক সংযোগ সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছে।