রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পাকশীর পদ্মায় দিনে-রাতে সমানতালে লুট হচ্ছে মাটি

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন
পাকশীর পদ্মায় দিনে-রাতে সমানতালে লুট হচ্ছে মাটি

পাবনার ঈশ্বরদীতে দিনের আলোয় কিংবা রাতের আঁধারে সমানতালে পদ্মা নদী ও আশপাশের চরের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে লুট করে সেই মাটি ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর এলাকায় প্রতিদিন ও রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক, ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। নদী থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীর মধ্যে আলাদা নালার মতো হয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা। পাশাপাশি আগামীতে এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী ।


দেখা গেছে, দিনে তো বটেই রাতভর তিন থেকে চারটি এক্সকাভেটর বা ভেকু দিয়ে চররূপপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ১০/১২টি ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির বিশাল স্তুপ করে রাখা হয়েছে ভাটার পাশে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে দিনে মাটি কাটা কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাটি কাটা। এতে নদীর চরাঞ্চলের উর্বর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং আবাদি জমির পরিমাণ যাচ্ছে কমে। একই সঙ্গে এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দিলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় হতে পারে বড় ধরনের ক্ষতি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মচারী দাবি করেছেন, ‘পুলিশকে ম্যানেজ’ করেই অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রতিটি এক্সকাভেটরের জন্য প্রতি রাতে পুলিশকে ১৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তরিকুল নামের এক ব্যক্তি নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তবে ‘এঅ্যান্ডবি’ ইটভাটার মালিক তরিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কারা মাটি কাটছে তা আমি জানি না। আমরা শুধু ইট বানানোর জন্য ভাটার প্রয়োজনে মাটি কিনে থাকি।


ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে পুলিশের। তিনি বলেন, দিনের বেলা বন্ধ থাকলেও একটি চক্র রাতের আঁধারে চুরি করে মাটি কাটছে বলে আমরাও খবর পেয়েছি। সেখানে পুলিশও পাঠানো হয়েছিল তবে পুলিশ যাওয়ার সংবাদ পেয়ে তারা সেখান থেকে সটকে পড়েছে জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।