রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

গোদাগাড়ীতে ‘মেডি’ রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মুখোশধারী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ মে ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ীতে ‘মেডি’ রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মুখোশধারী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার সরমংলা লালপুর মহল্লায় এক বাড়িতে ‘মেডি’ নামে পরিচিত মাদক রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ভোরে খবর পেয়ে অভিযানে যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তল্লাশি না করেই ফিরে যায় কর্মকর্তারা। পরে স্থানীয়দের তল্লাশিতে বাড়ির রান্নাঘরের দেয়ালের ফুটো থেকে তিন প্যাকেট মাদক উদ্ধার করা হয়।


ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (১৩ মে) ভোরে। বাড়ির মালিক সৈবুর রহমানের ছেলে মো. আদিল জানান, রাত ২টা ১৩ মিনিটের দিকে সিসিটিভি ক্যামেরায় মুখে মাস্ক ও গামছা জড়ানো এক ব্যক্তিকে বাড়ির পেছনের দিকে যেতে দেখা যায়। ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল বাড়িতে অভিযান চালাতে আসে।


আদিল বলেন, “সিসিটিভিতে ওই ব্যক্তিকে দেখার পর সন্দেহ হয়। পরে কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে তারা ফুটেজ দেখে তল্লাশি না করেই চলে যান।” এরপর স্থানীয়রা মিলে খোঁজাখুঁজি করে রান্নাঘরের দেয়ালের একটি ফুটো থেকে তিন প্যাকেট হেরোইন সদৃশ ‘মেডি’ উদ্ধার করেন এবং তা পানিতে ফেলে নষ্ট করেন।


স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, “অভিযান শেষে আমরা নিজেরাই তল্লাশি করে মাদকগুলো পাই। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় সেগুলো ধ্বংস করে দিই।” আরেক বাসিন্দা সাদিকুল ইসলামও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আদিলের অভিযোগ, এর আগেও ২০২৫ সালের ১৯ জুন জানালা দিয়ে হেরোইন ফেলে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল। সেদিন র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রতিবেশী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে মুখ ঢেকে থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।


এ ঘটনায় সৈবুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগেও আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছিল। অনেক কষ্টে জামিন করিয়েছি। এখন আবার একই চেষ্টা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”


এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর আমরা বাড়িতে তল্লাশি চালাইনি। বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে।”


গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অভিযোগটি হাতে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মেডি’ নামে পরিচিত এই পাউডার দেখতে হেরোইনের মতো হলেও এর দাম তুলনামূলক কম। মাদক কারবারিরা এটি হেরোইনের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করে থাকে। এলাকায় এমনভাবে মাদক রেখে ফাঁসানোর ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।