রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

নিয়ামতপুরের ওষুধ ছাড়াই চলছে কমিউনিটি ক্লিনিক

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিয়ামতপুর প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
নিয়ামতপুরের ওষুধ ছাড়াই চলছে কমিউনিটি ক্লিনিক

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ভুগছে ওষুধ সংকটে। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা পাচ্ছেন না কোন ওষুধ। সরবারাহ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। ফলে ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন শত শত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ।


জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ৬ মাস ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।


উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু হতাশা আর ক্ষোভ। গ্রামীন জনপদের সাধারণ মানুষ জ্বর-সর্দির ওষুধের জন্য সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ওষুধ না পেয়ে তারা  এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই অনেক পরিবারের।


সাংবাদিক পরিচয় দিলে পানিহারা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা লক্ষ্মী রানী (৬০) নামের এক বৃদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমি গরিব মানুষ, বাইরে ওষুধ কেনার টাকা নেই। আগে এই ক্লিনিকে আসলে সপ্তাহে দু-একদিন অল্প-স্বল্প ওষুধ পেতাম কিন্তু অনেক দিন থেকে এখানে কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।


দিনমজুর আব্দুর রশিদ (৫০) বলেন, মানুষের কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। আগে নিজের বা ছেলেমেয়েদের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ওষুধ পেতাম, এখন  তাও বন্ধ। ওষুধ না পেয়ে গরিব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিতে আসলেও ওষুধ না থাকায় খালি হাতে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। সরবরাহ না থাকায় আমাদের আসলে কিছুই করার নেই


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল নাহিদ ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন ,নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টির মতো কমিউনিটি ক্লিনিকে কিছু মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং গ্রামীণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন।