শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ডাক বিভাগের উত্তরাঞ্চল সার্কেলে আয়ের চেয়ে ব্যয় ১২ গুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন বিশেষ প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
ডাক বিভাগের উত্তরাঞ্চল সার্কেলে আয়ের চেয়ে ব্যয় ১২ গুন

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উত্তরাঞ্চল সার্কেলে গেল অর্থবছরে আয়ের চেয়ে ১২ গুন বেশি ব্যয় হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উত্তরাঞ্চলে ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আয় করেছে। এতে ঘাটতি প্রায় ১৫৯ কোটি ২৯ লাখ। 


রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ নিয়ে গঠিত এই সার্কেলে ২ হাজার ১৯৯টি ডাকঘর পরিচালিত হয়। ৫ হাজার ৩৩৭ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কর্মচারীসহ মোট ৭ হাজার ৮৬৪ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। নিবন্ধিত ও বিমাযুক্ত ডাক কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে, পাশাপাশি মূল্য পরিশোধযোগ্য ডাক পরিষেবাও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।


ডাক খাতের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সংকট তৈরি করছে। সমসাময়িক চাহিদা পূরণের জন্য পরিষেবার বৈচিত্র্যকরণের মধ্যে ডাককে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ যদি তার ব্যাপক অবকাঠামোর আরও ভালো ব্যবহার করে পার্সেল লজিস্টিকস, ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য না আনে, তাহলে প্রচলিত ডাক পরিষেবা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং বেসরকারি কুরিয়ার সংস্থাগুলোর কারণে সরকারি  এই ডাক সেবা সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উত্তর সার্কেল মাত্র ২৭ লাখ ৯০ হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চিঠি এবং ডাক সামগ্রী পরিচালনা করেছে। যার মধ্যে ২৭ লাখ ৬০ হাজার অভ্যন্তরীণ রেজিস্টার্ড চিঠি এবং মাত্র ১৭ হাজার ৪৫২টি আন্তর্জাতিক রেজিস্টার্ড চিঠি পাঠানো হয়েছে। 


কাজের পরিমাণ কমে যাওয়া সত্ত্বেও ব্যয় বিপুল পরিমাণে বেশি থেকেছে। গেল তিন অর্থবছরে রাজস্ব সামান্যই বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা হয়েছিল। এবং গেল অর্থবছরে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা হয়েছে। ব্যয়ের সিংহভাগই ছিল কর্মী-সম্পর্কিত খরচ।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এরপরে রয়েছে সরবরাহ ব্যয় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বেতন বাবদ ৩৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং অফিস ভাড়া বাবদ ৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেবা চার্জ ও কমিশন থেকে রাজস্বের সর্বোচ্চ অংশ হিসেবে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে। স্ট্যাম্প বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ডাক মাশুল থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য সেবা থেকে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে। প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক ঘাটতিও প্রকাশ পেয়েছে।


উত্তর সার্কেলের ২ হাজার ১৯৯টি ডাকঘরের মধ্যে মাত্র ৮২৬টি ডাক বিভাগের নিজস্ব জমিতে পরিচালিত হয় বাকি ডাকঘরগুলো ভাড়া করা জায়গায় অথবা অন্যান্য সংস্থা বা ব্যক্তির মালিকানাধীন জমিতে চলে। এছাড়াও, ৩,৮৬৫.৭৬ ডেসিমেল সরকারি মালিকানাধীন ডাকঘরের জমির নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং ৩৮৩টি নিরীক্ষা আপত্তিÑযার মধ্যে ২০টি সাধারণ, ১৩৭টি অগ্রিম এবং ২২৬টি খসড়া আপত্তি রয়েছে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।


অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল (উত্তর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পোস্টকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা উচিত। রেলওয়ে এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের মতো, সেই কার্যক্রম লাভজনক হোক বা না হোক, আমাদেরও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলসহ সারাদেশে ডাক পরিষেবা চালু রাখতে হয়। 


চিঠিপত্রের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিস্তারিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পর তিনি পরিসংখ্যানগুলো ব্যাখ্যা করবেন।