পশ্চিমবঙ্গে দাপুটে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে গুলি করে-কুপিয়ে খুন!
ফের ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড খাস বাংলায়। এবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় দাপুটে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করল দুষ্কৃতীরা। প্রথমে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টা করা হয়। এরপর গুলি করেই পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
মৃতেরা হলেন, আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান। জানা গিয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য, নদিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন নাকাশিপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি, এবং এলাকার দীর্ঘদিনের দাপুটে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্র আবু সুফিয়ান বাইকে করে আজ বাড়ি ফিরছিলেন বাড়ির দিকে। শনিবার সন্ধ্যায় বেথুয়াডহরী থেকে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় তাঁদের বাইক আটকায় দুষ্কৃতীরা।
দাপুটে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে প্রথমে একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেন দুষ্কৃতীরা। এরপর বাবা ও ছেলেকে গুলি করেই পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনেই স্থানীয়রাও ছুটে আসেন।
তড়িঘড়ি করে বাবা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
আনিসুর রহমান ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরনগর পঞ্চায়েত এলাকায় জুব্বার শেখ নামে এক নেতার প্রভাব ছিল। তিনি একসময় সিপিএম করলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় ধীরে ধীরে আনিসুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছিল। সম্প্রতি জুব্বার শেখ জেলে যাওয়ার পর এলাকায় তাঁর প্রভাব কমে আসে এবং কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালানো হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। বাবার সঙ্গে থাকায় আবু সুফিয়ানকে সাক্ষী প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে খুন করা হয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে খুনের প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে নদিয়া জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন