রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

নিখোঁজের দুই বছর পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল রুহুল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০৬ অপরাহ্ন
নিখোঁজের দুই বছর পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল রুহুল

মাদকের নেশায় কুঁড়িতেই ঝরে গেল ফুল। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিচয় সনাক্ত করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই কিশোরের ছবি দিয়ে তার পরিচয় খোঁজার ২ দিন পর তার পরিচয় পাওয়া যায়। কিশোরের নাম রুহুল আমিন (১৫)। সে পাবনা সদর উপজেলার গাছপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর নিখোঁজ থাকার পর অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত শুক্রবার ভর্তি করা হয় রুহুল আমিনকে। দুই দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয় সেখানেই। ফেসবুকে অজ্ঞাতপরিচয় একটি লাশের ছবি দেখে রুহুল আমিনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সজীব হোসেন চিনতে পেরে পরিবারের লোকজনকে জানালে ঈশ্বরদীতে এসে লাশ সনাক্ত করে স্বজনরা। পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার ওই কিশোরের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাই সজীব হোসেন জানান, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে অভিমান করে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রুহুল। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে তাকে খুঁজতে থাকেন।


একপর্যায়ে জানতে পারেন, সে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে ছিনমুল শিশুদের সঙ্গে রয়েছে। পরে স্টেশনে থাকা মাদকাসক্ত কিশোরদের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে। কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রুহুল। এরপর ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ছিন্নমূল ও মাদকাসক্ত কিশোরদের সঙ্গে তার চলাফেরা শুরু হয়। পরিবারের দাবি, ওই সময় সে ড্যান্ডিসহ বিভিন্ন নেশায় জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তার আর সন্ধান পায়নি পরিবার। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তি রুহুল আমিনকে শুক্রবার এখানে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়।


ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তি কিশোরটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হলে হাসপাতাল থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। পরে ফেসবুকে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের এক স্বজন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীতে ছিন্নমূল শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় থানার পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এসব শিশুর বয়স সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু জটিলতা রয়েছে। তারপরও তাদের জন্য কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেখা হচ্ছে।