বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের হড়পা বান? ভূমিধসে ২ নদীর গতিপথ বন্ধ, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪০ অপরাহ্ন
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের হড়পা বান? ভূমিধসে ২ নদীর গতিপথ বন্ধ, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ
হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। -ফাইল চিত্র।

নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে পাহাড়ি ধসের কারণে রুদ্ধ হয়েছে ছোছেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর গতিপথ। আর বুধবারের ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সেখানে রাতারাতি সৃষ্টি হয়েছে বিশাল এক হ্রদের। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎ পাথর ও মাটির স্তূপের ‘অবরোধ’ ভেঙে গেলে নতুন করে হড়পা বান নামতে পারে বলে বৃহস্পতিবার সতর্কবার্তা দিয়েছে তিব্বতের নিয়ন্ত্রক চিন।


বেজিঙের জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট দুই নদীর সঙ্গমস্থলে মিলিত প্রবাহ গতিরুদ্ধ হওয়ায় আগামী তিন দিনে নতুন তৈরি হওয়া হ্রদে ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমা হতে পারে। এই বিপুল জলরাশির চাপে পাথর-মাটির বাধা চুরমার হয়ে গেলে প্রাণঘাতী জলস্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা। ছোছেন খোলা ও পুরুপে সাংপোর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের ঠিক আগে তারা একত্রিত হয়। এর পর তাদের মিলিত প্রবাহ ভোটেকোশী নাম নিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ভোটেকোশী হল ত্রিশূলী নদীর প্রধান উপনদী।


চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত খবর, এখনও পর্যন্ত নতুন তৈরি হওয়া ওই হ্রদে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিনের জলসম্পদ উন্নয়ন দফতর জানিয়েছে কাঠমান্ডুকে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ জলরাশি আছড়ে পড়লে নেপালের তরাই অঞ্চলের পাশাপাশি বিহার ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন। প্রসঙ্গত, ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরে জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তুষারধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল লেহন্দে নদীর গতিপথ। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎই সেই ‘অবরোধ’ ভেঙে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় হড়পা বান।


কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা জল পাথর ফাটিয়ে ভোটেকোশীতে পড়ে বিপর্যয় ঘটায়। পাশাপাশি, হিমবাহের বরফগলা জলে পুষ্ট কোনও ছোট হ্রদও ফেটে গিয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে সময়ই ভূমিধসের কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদটি সৃষ্টি হয়। বুধবারের ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু। প্রায় ৩০০ ভারতীয়-সহ নিখোঁজ প্রায় ৭০০ জন। অন্য দিকে, তিব্বতেও ২০০-বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চিন সরকার। তিব্বতে আটকে পড়েছেন প্রায় ২০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক। তিব্বতের দিকে নিখোঁজ অন্তত ৫৫৮ জন।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন