বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

কোটি কোটি মানুষের তেষ্টা মেটাতে কোথা থেকে জল আনে সৌদি?

সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৫ অপরাহ্ন
কোটি কোটি মানুষের তেষ্টা মেটাতে কোথা থেকে জল আনে সৌদি?

একটি দেশে স্থায়ী কোনও নদী বা হ্রদ নেই, বছরে গড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও একশ মিলিমিটারের নিচে। অথচ সেই রুক্ষ বালুকাময় প্রান্তরে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের বসবাস এবং আধুনিক শহরগুলো দিব্যি সচল রয়েছে। ভৌগোলিক বাস্তবতাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব।


নদীমাতৃক দেশের মানুষের কাছে জল পাওয়াটা খুব স্বাভাবিক বিষয় হলেও সৌদি আরবের মতো চরম শুষ্ক মরুভূমির দেশে তা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মতো। প্রাকৃতিকভাবে সেখানে কেবল ‘ওয়াদি’ বা সাময়িক শুষ্ক নদীর খাত রয়েছে, যা কদাচিৎ ভারী বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য জলে ভরে ওঠে এবং পরক্ষণেই শুকিয়ে যায়। কিন্তু কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালির জলের জোগান দিতে দেশটি গড়ে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক কৃত্রিম পরিকাঠামো নেটওয়ার্ক।


সৌদি আরবের পানীয় জলের প্রধান উৎস হল সমুদ্রের লোনা জল মিষ্টি জলে রূপান্তর করার প্রযুক্তি, যাকে বলা হয় ‘ডিস্যালিনেশন’। সমুদ্র উপকূলজুড়ে দেশটি ৩০টিরও বেশি বিশালাকার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট উৎপাদিত মিষ্টি জলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একা সৌদি আরবেই তৈরি হয়। 


রাস আল-খাইরের মতো দানবীয় প্রকল্পগুলো প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনমিটার নোনা জলকে খাওয়ার উপযোগী জলে রূপান্তরিত করে। এরপর সুবিশাল পাইপলাইনের এক জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার মরুভূমি পার করে, মাধ্যাকর্ষণকে উপেক্ষা করে সেই জল পৌঁছে দেওয়া হয় রাজধানী রিয়াদের মতো অভ্যন্তরীণ বড় বড় শহরগুলোতে।


সমুদ্রের জলের পাশাপাশি বহু হাজার বছর ধরে মাটির নিচে জমে থাকা প্রাচীন ভূগর্ভস্থ জল (অ্যাকুইফার) তুলে আনার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় কমাতে এবং জলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি এখন বর্জ্য জল পুনর্ব্যবহার (ওয়াটার রিসাইক্লিং) এবং ক্লাউড সিডিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। 


আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিপুল বিনিয়োগ কীভাবে প্রকৃতির কঠোরতম প্রতিকূলতাকে জয় করে কোটি কোটি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, সৌদি আরবের জল সরবরাহ ব্যবস্থা তারই এক অনন্য উদাহরণ।


তথ্যসূত্র:আজকাল অনলাইন