বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

মৌখিকের নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, সুবিধা পাবে না কেউ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৪ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৪ অপরাহ্ন
মৌখিকের নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, সুবিধা পাবে না কেউ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী/ ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষায় মৌখিকের নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাউকে সুবিধা দিতে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।


সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থায় বর্তমানে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে একেক ধরনের পরীক্ষাপদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন চালু রয়েছে। কোথাও লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিকের নম্বর কম, আবার কোথাও লিখিত ও মৌখিকের নম্বর প্রায় সমান।


এ ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগের জন্য অভিন্ন নম্বর বণ্টনের একটি বিশেষ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন বিধিমালায় মূলত মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে বিধিমালার খসড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।


প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরাসরি নিয়োগে অবৈধ অর্থের লেনদেন, প্রভাব খাটানো ও আনুকূল্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে আসায় জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, মৌখিকের ওজন বাড়লে নিয়োগে অনিয়মের সুযোগও বাড়তে পারে।


বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীর সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় বড় ব্যবধান তৈরি করার সুযোগ থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


তবে সরকার বলছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় সামঞ্জস্য আনা, প্রক্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর অসদুপায় ঠেকানো এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা। আর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়নের আগে এখনো আরও প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।


তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাগো নিউজকে বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’


তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সবগুলো পরীক্ষাকে একটি ব্যবস্থার মধ্যে আনার জন্য আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি।


মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেয়। সবগুলো পরীক্ষা একসঙ্গে করে একটা সিস্টেমে আনার জন্য একটা চিন্তা করা হচ্ছে, এটাই। ফাইনাল কিছু এখনো হয়নি তো। হোক, হোক আগে। তখন..

.’

যে পরিবর্তনের প্রস্তাব

সরকারি চাকরিতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় সামঞ্জস্য আনতে ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।


এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৩১ আগস্টের সারসংক্ষেপে এ বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।


প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১১তম ও ১২তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষায় লিখিত ১০০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা ৫০ নম্বরের হবে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ২৫ নম্বর করে থাকবে। লিখিত পরীক্ষার সময় ৯০ মিনিট। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৩৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ পাস নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ