বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

শাহ আলী মার্কেটে স্বর্ণ চুরি, নেপথ্যে সাবেক দুলাভাই-শ্যালক

সোনার দেশ ডেস্ক ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন
শাহ আলী মার্কেটে স্বর্ণ চুরি, নেপথ্যে সাবেক দুলাভাই-শ্যালক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা: রাত তখন প্রায় ২টা। মিরপুরের শাহ আলী হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।


দোকানের শাটার বন্ধ, ক্রেতা নেই, ব্যস্ততা নেই। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তৌফাজ্জল হোসেনও ছিলেন মার্কেটের ভেতরেই।


তৌফাজ্জল কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান হারান, আর তার অচেতন হওয়ার সুযোগেই একের পর এক স্বর্ণের দোকানে চুরি।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ঘটনাটি নিছক রাতের চুরি ছিল না।


প্রায় দেড় মাস ধরে পরিকল্পনা, বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরে লোক ঢোকানো, দোকানের সিসিটিভি, নিরাপত্তার ধরন, ভল্ট, দোকানের বিন্যাস ও স্বর্ণের মজুত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ-সবকিছুই করা হয়েছিল আগেভাগে। আর এ পুরো পরিকল্পনার পেছনে অর্থ জুগিয়েছেন ফ্রান্সপ্রবাসী সাইদ নাসির ওরফে ‘ফ্রান্স নাসির’; বাংলাদেশে বসে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তার সাবেক শ্যালক শামীম খান।


যদিও ফ্রান্স নাসিরের সঙ্গে শামীমের বোনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সেই পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। বরং সেটিই পরিণত হয়েছে অপরাধের একটি নেটওয়ার্কে।


নিরাপত্তাকর্মী সেজেই ঢুকেছিল চক্র

ডিবি মিরপুর বিভাগের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন মার্কেটে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নিতেন। দিনে তারা পাহারা দিতেন, আর সেই সুযোগেই সংগ্রহ করতেন রাতের চুরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।


কে কখন দায়িত্বে থাকেন, কোথায় সিসিটিভি, কোন দোকানে কতটুকু নিরাপত্তা, ভল্ট কোথায়, দোকানের ভেতরে স্বর্ণ কীভাবে রাখা হয়-এসব তথ্য ধীরে ধীরে সংগ্রহ করা হতো। এমনকি চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও দিনের বেলায় মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


এ কাজে অর্থের জোগান দিতেন ফ্রান্স নাসির। ভাড়া, চলাফেরা, চুরির সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতেন তিনি। আর দেশে বসে পুরো অপারেশনের পরিকল্পনা ও সদস্যদের সমন্বয় করতেন শামীম। জাল পরিচয় তৈরির কাজেও ছিলেন আলাদা লোক। 


ডিবির তথ্যে, কাওসার মাস্টার ওরফে ‘মেয়র’ ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করতেন। গ্রেপ্তার সদস্যদের আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও তিনি করতেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।


অন্যদিকে তালা ও সিন্দুক কাটায় দক্ষ রাজা মিয়া ছিলেন চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি।


রাত ২টায় নিরাপত্তাকর্মীকে মিষ্টি

২৫ জুলাই রাতের সেই অভিযানের সময় চক্রটির সদস্যরা প্রথমে দ্বিতীয় তলার নিরাপত্তাকর্মী তৌফাজ্জল হোসেনকে টার্গেট করেন। ডিবির তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টার দিকে তাকে চেতনানাশক মেশানো মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন তাকে কিছু খাওয়াচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। নিরাপত্তারক্ষী অচেতন-এবার পুরো দ্বিতীয় তলা কার্যত চক্রটির নিয়ন্ত্রণে।


এরপর এক দোকান নয়, একের পর এক দোকানে ঢোকার চেষ্টা করেন তারা। মোট চারটি দোকানকে টার্গেট করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘এ হোসাইন জুয়েলার্স’ ও ‘আল রাজ্জাক জুয়েলার্সে’ ঢুকে স্বর্ণ ও টাকা নিতে সক্ষম হন তারা।


তবে প্রিন্স জুয়েলার্স ও নূপুর জুয়েলার্সে গিয়ে থমকে যেতে হয়। তালা কাটার যন্ত্র দিয়ে চেষ্টা করেও শেষ তালা কাটা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরে যান তারা। আর এ ব্যর্থতার পেছনেও ছিল অন্য এক গল্প।


এক দোকান মালিক রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত জেগে সিসিটিভি দেখছিলেন। ফলে ওই দোকানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। তাই লক্ষ্য বদলে অন্য দোকানে যায় চক্রটি।


দুই দোকানে মিলল সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি স্বর্ণের হিসাব

চুরির ঘটনায় দারুস সালাম থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুই দোকান থেকে প্রায় ২৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এজাহারে স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে এ হোসাইন জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 


এজাহার অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল ১০৮টি চেইন, ১৭৪টি আংটি, ১৯টি লকেট, ৪৭ জোড়া কানের দুল, ৯৭ জোড়া কানের দুল, ১০ জোড়া চুড়ি, ২১টি ব্রেসলেট, ৮টি নেকলেস, ৫০ জোড়া টপস ও ২৬০টি নাকফুল। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ছিল ক্রয় ভাউচার ও ৩ লাখ টাকা নগদ।


আল রাজ্জাক জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৬০ ভরি স্বর্ণ নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ছিল ১৯টি নেকলেস, ১২টি ব্রেসলেট, ২৮টি লকেট, ২টি টিকলি, ৯ জোড়া চুড়ি, ৪০টি আংটি, ১৩৫টি নাকফুল ও ৬৫টি কানের দুল। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সঙ্গে ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা নগদ। তবে এখানেই তদন্তে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।


এজাহারে যেখানে ২৬০ ভরি স্বর্ণ চুরির কথা বলা হয়েছে, সেখানে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে ৫০ থেকে ৬০ ভরি স্বর্ণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে ডিবি জানিয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত স্বর্ণ চুরি হয়েছে, সেই হিসাব এখনো নিশ্চিত নয়।


ডিবির হাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণসহ কিছু মালামাল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় আধা কেজি নকল স্বর্ণালংকারও। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রের নতুন সদস্যদের কাউকে কাউকে আসল স্বর্ণের বদলে নকল স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছিল।


অর্থাৎ এ মামলার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু-চুরি কারা করেছে-তা নয়, প্রশ্ন হলো, আসলে কত স্বর্ণ গিয়েছিল, কতটা উদ্ধার হয়েছে এবং বাকি স্বর্ণ কোথায়?


চুরি শেষে বাড়ি নয়, নিরাপদ আস্তানায়

অভিযান শেষ করেই চক্রটির সদস্যরা যার যার বাড়িতে ফিরে যাননি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ঢাকার দয়াগঞ্জ-মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় জড়ো হন।


সেখানেই চুরি করা মালামাল ভাগ করার পরিকল্পনা ছিল। অভিযানের পর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের সব পথও বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।


ডিবির তথ্যে, শামীম সদস্যদের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে ভেঙে ফেলেন। এরপর তাদের তিন থেকে চার মাস কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করার এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটি কীভাবে আসছে, তা নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।


অর্থাৎ চুরি শেষ হলেও পরিকল্পনা তখনো শেষ হয়নি। বরং শুরু হয়েছিল প্রমাণ মুছে ফেলা ও আত্মগোপনের দ্বিতীয় ধাপ।


‘চুরি করি, ডাকাতি করি না’

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চক্রটির অপরাধের নিজস্ব হিসাবও। তাদের একজন ডিবিকে বলেছেন, স্যার আমরা চুরি করি, কিন্তু ডাকাতি করি না। চুরি করলে তাড়াতাড়ি জামিন পাওয়া যায় আর ডাকাতি করলে জামিন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে।


তদন্তকারীদের মতে, এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তারা অস্ত্র দেখিয়ে বা সরাসরি হামলা করে লুটের চেয়ে তুলনামূলক কম ঝুঁকির পথ বেছে নিয়েছিল। যেসব দোকানে স্বর্ণ সহজে দেখা যায় এবং যেখানে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি কম-সেগুলোই ছিল তাদের পছন্দ।


কিন্তু সেই ‘কম ঝুঁকির’ পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে তারা ব্যবহার করেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা-নিরাপত্তাব্যবস্থা।


নিরাপত্তাকর্মীই যখন প্রবেশের চাবি

ডিবির তদন্তে এ মামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে সামনে এসেছে ভুয়া পরিচয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মার্কেটে ঢুকে পড়ার বিষয়টি।


চক্রের পাঁচ সদস্য ভুয়া পরিচয়ে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করছিলেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হলেও বাসু সাহা নামে একজন এখনো পলাতক।


গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইউসুফ নামে পরিচিত নাসির উদ্দিন, শহিদুল নামে পরিচিত আবুল কালাম মৃধা, রব্বি নামে পরিচিত সাদেক এবং বাবুল নামে পরিচিত সোহরাফ সিকদারের নাম এসেছে। এ ছাড়া রাজু মৃধা, নিরাপত্তা ইনচার্জ রিয়াজ, জাকির হোসেন, সালাম মাতবর ও ওমর ফারুকসহ আরও কয়েকজনের নাম তদন্তে এসেছে।


ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


ডিবি মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাজিদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে যেসব পরিচয় ও তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশই ভুয়া ছিল; শুধু ছবি ঠিক ছিল। প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


ডিবি মিরপুরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে ভুয়া রেকর্ডের কারণে তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিসহ সরাসরি জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


চুরি যাওয়া স্বর্ণের একটি অংশ ছিল অন্যের আমানত

এ চুরির সবচেয়ে মানবিক দিকটি লুকিয়ে আছে দোকানের ভেতরে রাখা স্বর্ণের মালিকানায়।


চুরি যাওয়া সব স্বর্ণ যে দোকান মালিকদের নিজেদের ছিল, তা নয়। কিছু স্বর্ণ ছিল বিভিন্ন পরিবারের ও গ্রাহকের।


এমনই একজন গ্রাহক বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগের দিন নিজের স্বর্ণ এ হোসাইন জুয়েলার্সে রেখে গিয়েছিলেন। বিদেশযাত্রার আগে বাড়ির চেয়ে দোকানে রাখাকেই তিনি নিরাপদ মনে করেছিলেন। অথচ পরদিন সেই স্বর্ণও চলে যায় চোরদের হাতে।


আল রাজ্জাক জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপকও বলেন, তার পরিবারের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ ওই চুরিতে গেছে। যদিও ভল্টে রাখা কিছু স্বর্ণ রক্ষা পেয়েছে।


ফলে এ চুরির ক্ষতি শুধু কয়েক কোটি টাকার হিসাবের মধ্যে আটকে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রাহকের আস্থা, পরিবারের সঞ্চয় এবং নিরাপদে রাখা স্বর্ণ হারানোর দীর্ঘ অনিশ্চয়তা।


নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন

ঘটনার পর তদন্তের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কেটের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘অ্যাভান্ট-গার্ড অ্যালায়েন্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। 


ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেট সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম পারভেজ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করেই তার এক বন্ধুর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।


এ বিষয়ে জানতে সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপেও কোনো জবাব দেননি।


মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহমদুল হাসান বলেন, সব কিছু সভাপতি করেছেন। আমাদের হাতে কিছু নেই।


নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ফলে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন শুধু চোরদের নিয়ে নয়-যে নিরাপত্তাব্যবস্থার ভেতর দিয়ে তারা মার্কেটে ঢুকলেন, সেই ব্যবস্থার নিয়োগ, যাচাই ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও সামনে এসেছে।


শুধু কি শাহ আলী মার্কেট স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে ?

ডিবির তদন্ত এখানেই থেমে নেই। তদন্তকারীদের ধারণা, এ চক্রের সদস্যরা রাজধানীর কচুক্ষেত, হাতিরঝিল, রামপুরার মোল্লা টাওয়ার, দক্ষিণখান, ডেমরা ও মালিবাগসহ আরও কয়েকটি চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।


ডিবির কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে ঢাকায় নিরাপত্তাকর্মী সেজে মার্কেটে ঢুকে চুরির প্রস্তুতি নেওয়া আরও ২ থেকে ৩টি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ