বোরকা পরে কৃষককে হত্যা
বরিশাল: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কবির ব্যাপারী (৫৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে বোরকা পরা একদল দুর্বৃত্ত। হত্যার আগে তার হাত-পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়।
পরে মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাজীরহাট থানার ভাসানচর ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান।
নিহত কবির ব্যাপারী মুলাদী উপজেলার কাজীরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাদুরপুর গ্রামের হাসমত আলী ব্যাপারীর ছেলে।
স্থানীয় লোকজন ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে অটোরিকশায় করে গাজীরহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন কবির।
বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বোরকা পরা একদল দুর্বৃত্ত অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এরপর তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে কবিরকে গুরুতর জখম করে। এরপর তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
কিছু সময় পর পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে নিহতের স্বজন ও পুলিশকে খবর দেন।
কাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু হানিফ সরদার ও নিহতের এক মামা জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে বোরকা পরে একদল দুর্বৃত্ত কবির ব্যাপারীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে বোরকা ফেলে রেখে যায়।
দক্ষিণ বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা কবিরের চাচাতো ভাই শহীদ বেপারী বলেন, ২০০৫ সালে একই এলাকার শাহাবুদ্দিন বেপারীকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শাহাবুদ্দিনের স্বজনরা কবিরকে আসামি করে মামলা করেন। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই কবিরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ