শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

মমতার হাতছাড়া জোড়াফুল! তৃণমূলের আদি প্রতীক পেল না ঋত-শিবিরও

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
মমতার হাতছাড়া জোড়াফুল! তৃণমূলের আদি প্রতীক পেল না ঋত-শিবিরও
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আপাতত রইল না তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক। ২৮ বছর আগে যে প্রতীক নিজে হাতে এঁকেছিলেন মমতা, উপনির্বাচনের জন্য তা পেল না বিক্ষুব্ধ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। টানটান স্নায়ুযুদ্ধ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দিল, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত তাদের সিন্দুকে জমা রাখা হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তবহিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর— ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই সিন্দুকের তালা খোলা হবে।


তৃণমূলের প্রতীক-দ্বন্দ্বে আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবির এখনও জানে না, তারা কোন প্রতীকে লড়বে। বৃহস্পতিবার কমিশন জানিয়েছে, আপাতত কোনও পক্ষকেই আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও আপাতত তারা ব্যবহার করতে পারবে না। দুই শিবিরকে নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে হবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যাবে।


প্রতীক হিসেবে জোড়াফুলও ব্যবহার করতে পারবে না কালীঘাট কিংবা ঋতব্রতের শিবির। উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীক বা দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। ১৯৯৮ সালে পথ চলা শুরু করেছিল তৃণমূল। এখন ২০২৬ সাল। অর্থাৎ, দীর্ঘ ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হবে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই!


বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতাকে শুধু সরকার থেকে সরতে হয়নি, তাঁর নিজের হাতে গড়া দলই অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে গিয়েছে। মমতার স্থির করে দেওয়া বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নস্যাৎ করে বিদ্রোহীরা পর্যাপ্ত সংখ্যা জুটিয়ে ঋতব্রতকে সেই পদে বসিয়ে দিয়েছেন। শুধু পরিষদীয় দল নয়, পৃথক ভাবে পার্টি সংগঠনের ক্ষেত্রেও মমতাকে সরিয়ে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করেছেন ঋতব্রতেরা। যার চেয়ারম্যান হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়। গত জুন মাসে এই ভাঙা-গড়ার পর্বে মমতা শিবিরের হয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখেছিলেন তাঁর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনিও এখন ঋতব্রতদের দিকে।


আসল তৃণমূল কে, প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে একাধিক বার তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় তৃণমূলের দু’পক্ষকে তলব করা হয়েছিল দিল্লির নির্বাচন সদনে। বেরিয়ে ঋতব্রতেরা দাবি করেছিলেন, তাঁরা আশাবাদী জোড়াফুল প্রতীক তাঁরা পাবেন। তবে পুরোটাই যে কমিশনের সিদ্ধান্ত, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতায় ঋতব্রত তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত দাবি করেছিলেন, একটা বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত যে, মমতার হাতে জোড়াফুল থাকবে না। হলও তা-ই।


দলের দখল নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দেয় কমিশন। সে দিনই বোঝা গিয়েছিল, জোড়াফুলের মালিকানার বিষয়ে এ বার অন্তর্বর্তিকালীন হলেও কোনও একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশনকে। শুক্রবার সেই সিদ্ধান্তই নিয়ে দিল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।


জোড়া উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে বুধবারই। নন্দীগ্রামে মমতার শিবির প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগর কেন্দ্রে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। রেজিনগরে ঋতব্রতদের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান। নন্দীগ্রামে তাদের হয়ে লড়বেন মহম্মদ এহেতাশ মুল হক। কোন প্রতীকে তাঁরা লড়বেন, দলের নামই বা কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।


এ প্রসঙ্গে কালীঘাট শিবিরে যোগাযোগ করা হলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কুণাল ঘোষ দলের এই গুরুতর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ বিষয়ে যা বলার, শুক্রবার দলনেত্রী বলবেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বক্তব্য, নেত্রী বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্রে যা হওয়ার হয়েছে। অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম প্রতীক আমরা পাব। যেহেতু উপনির্বাচনের তাড়া রয়েছে, স্ক্রুটিনি চলছে, ১৯ তারিখের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, সে ক্ষেত্রে কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশাবাদী, যেহেতু দলের জেলা সভাপতি থেকে জেলা নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে আছেন, ভবিষ্যতে পাকাপাকি ভাবে এই প্রতীক আমরাই পাব।’’


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন