সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে যে চ্যালেঞ্জ দিলেন এমপি আবুসাইদ চাঁদ
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ায় পালিয়ে থেকে ফেসবুকের মধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন, আরে তোর বাপ তো একটা পিয়ন, লালমনিরহাটে ২০-৩০ টাকা আদায় করে খেত, আরে বাপের বেটা যদি হস, তোর কত বড় ক্ষমতা আছে, বাঘা-চারঘাট ও আড়ানীর মাটিতে এসে রাজনীতি কর।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আড়ানী মনোমোহিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আড়ানী পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আবু সাইদ চাঁদ আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা থেকে জনগণ পক্ষে আছে। কিন্তু আ.লীগ-জামায়াত ১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে চড়ে ভোট করেছিল। আমার নেতা বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় বলেছিল, স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমরা নির্বাচন বয়কট করলাম। স্বৈরাচারকে ঘরে ঢুকিয়ে নির্বাচন করব, আন্দোলন সংগ্রাম করে তাদের ঘরে ঢুকিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। ওই সময় আ.লীগ-জামায়াত বিএনপির বিপক্ষে ছিল, এখনো আছে।
আপনারা জানেন বিনা ভোটে শাহরিয়ার আলম এমপি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিল। বাঘা-চারঘাট এলাকার আড়ানীতে সে বাড়ি করেছেন, এখানেও তার কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু সে ভোলাই হাজীর নাতী-জামাই বলে পরিচয় দেন। ভোলাই হাজীর একটি মাত্র ছেলে, তার নাম ইমাজ উদ্দীন। ভোলাই হাজীর বাড়িতে সব সময় ২০-৩০ জন ছেলে-মেয়ে লালনপালন করতেন। তাদের লালনপালন করে বিয়ে দিতেন। এলাকায় ভোলাই হাজীর এটাই ইতিহাস। কিন্তু শাহরিয়ার আলম এলাকায় তাকে পূঁজি করে এসে জনগণকে বিভ্রান্তি শুরু করে।
বর্তমানে রাশিয়া থেকে ভাষণ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তি করছেন। আরে তোর বাড়ি তো ভেঙে দিতাম। তুই এখনো ভাল আছিস। ২০১৪ সালে আ.লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলি। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলায় দিয়ে ১৭ বছর হয়রানি করেছিস। পালিয়ে না থেকে চারঘাট-বাঘায় এসের াজনীতি কর।
ডিসেম্বরেনা-কি শেখহাসিনা দেশে আসবে? আরে মিয়া কারে ভয় দেখাও, মোদির কাছে থেকে না-কি রাশিয়া থেকে, এতে আমরা ভয় করি না। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল। আবারও পায়তারা শুরু করেছ। এর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশে আসো, তোমার জন্য ফাঁসি প্রস্তুত করে রেখেছি, তুমি আসলেই ফাঁসি কার্যক্রম শুরু করা হবে। আর শাহরিয়ার ফেসবুকের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে জনগণকে সাহস দিস, এ সাহস পাস কোথা থেকে। ২০১৪ সালে তোমরা ক্ষমতায় ছিলে, ওই সময় তোমাদের সাথে লড়াই সংগ্রাম করেছি, ওই সময় তোমরা কিছুই করতে পারনি। তাই রাশিয়া-ভারত থেকে জনগণকে বিভ্রান্তি করিস না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক। আড়ানী পৌর ও ইউনিয়নের বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যানারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা যুব দলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।
আড়ানী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তক আহমেদ বিল্টুর সঞ্চালনায় এবং যুবদল নেতা মহিদুল ইসলাম জুয়েলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল, বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, জেলা যুবদলে রসদস্য জয়নাল আবেদীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রাস ুপ্রমুখ।
সংবর্ধনাকে অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য আগের দিন মাইকিং করে বুধবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আড়ানী পৌরবাজার ও স্টেশন বাজার বন্ধ রাখা হয়।