শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

টানাপড়েনের পর তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘ফের আলোচনা শুরু’

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ন
টানাপড়েনের পর তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘ফের আলোচনা শুরু’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্পর্কের ‘সাময়িক’ টানাপড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কর্মকর্তারা ফের আলোচনা শুরু করেছেন বলে খবর দিয়েছে দ্য হিন্দু।


কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, এখন নভেম্বরের কোনো এক সময় এই সফর আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।


গত অগাস্টে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।


২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেয়নি ভারতের নরেন্দ্র মোদীর সরকার।


কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দু লিখেছে, ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আলোচ্যসূচিও তৈরি করা হচ্ছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্কের অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় সেখানে স্থান পেতে পারে।


এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকীতে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবে পাল্টা পোস্টে তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।


নভেম্বরে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরে তার একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে।


এর মধ্যেই নভেম্বরে সুবিধাজনক সময়ে তার নয়া দিল্লি সফরের সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলে ঢাকার কূটনেতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে হিন্দু।


ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সেখানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তখন বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘নতুন করে সাজানোর’ পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা।


এর আগে হিন্দু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি কর্মসূচি আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিএনপি সরকার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


সর্বশেষ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ভেঙে পড়েছে’, যা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানায়।


ভারতের সঙ্গে ‘যোগাযোগ রেখেছিলেন’ তারেক

হিন্দু লিখেছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আকস্মিক পতন অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হলেও ঢাকার বর্তমান সরকারের সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা।


“লন্ডনে নির্বাসনে থাকাকালেও ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন তারেক রহমান। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর ভারতের মনোভাব বুঝতে ফেব্রুয়ারিতেই তিনি একজন দূত পাঠিয়েছিলেন। সে সময়ই তিনি ইঙ্গিত পেয়েছিলেন, নয়া দিল্লিও মনে করছে হাসিনা সরকার আর কয়েক মাসের বেশি টিকতে পারবে না,” লিখেছে পত্রিকাটি।


হিন্দু বলছে, ভারত ও বিএনপি এই যোগাযোগ নতুন নয়; ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার আমলেও এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।


২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। সে সময় হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন’ জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।


এর আগে ২০১৮ সালে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নয়া দিল্লি সফর করে। ওই দলে ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির।


বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম তখন লিখেছিল, তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি ওই সফরের উদ্যোগ নিয়েছিল। দলের ভারতবিরোধী নীতি ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ ছিল—এমন উপলব্ধি থেকে দলের অবস্থানে পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ