শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের আলামত পাওয়া গেছে: জাতিসংঘ

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের আলামত পাওয়া গেছে: জাতিসংঘ
ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা (ফাইল ছবি)

ইরানে একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালানো ওই দুই হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ছিল।


জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২০ জন শিশু ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একই দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। সেখানে ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন।


তদন্ত মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনাবের স্কুলটি একটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত বেসামরিক স্থাপনা ছিল। সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কোনও প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি। কিন্তু হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল, যাতে ওই স্থানে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ওই তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলটির লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্য কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করার বিষয়টি শুধু অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত মিশনের মতে, হামলার সময় বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার যথেষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত ছিল।


মিনাবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, হামলার ফলে স্কুল ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর ভিত্তিতে তারা মনে করছেন, হামলাটি ছিল নির্বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।


অন্যদিকে, লামের্দে চালানো হামলায় একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্ত মিশন জানিয়েছে, ওই হামলাতেও বেসামরিক হতাহত হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার ছিল বলে তাদের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই তদন্তের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পেন্টাগনও প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর আগে বলে আসছেন, দেশটির সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই পরিচালিত হয়।


জাতিসংঘের একই তদন্তে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।


তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে আইনি জবাবদিহির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতে পারে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি, বাংলাট্রিবিউন