শনিবার, অক্টোবর ০৩, ২০২৬

শুক্রবার হলে বৃদ্ধি পায় প্রতিটি পণ্যর

নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন
শুক্রবার হলে বৃদ্ধি পায় প্রতিটি পণ্যর

সপ্তাহে শুক্রবার দিনটি এলেই বিভিন্ন বাজারে বাড়তে থাকে সবজির দাম। ছুটির দিনে ক্রেতার চাপ বাড়ায় চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে সবজির দামও। শুধু সবজি না বৃদ্ধি পায় মাছ, মুরগি ও মাংসের দামও।  


শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, সাগরপাড়া, ভদ্রা ও শালবাগানে গিয়ে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছুটির দিন হওয়ায় প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। কেউ সপ্তাহের বাজার করছেন, আবার কেউ পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ, মাংস ও সবজি কিনছেন। 


বিক্রেতারা বলছেন, অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার ক্রেতা বেশি থাকায় বাজারে সবজির চাহিদাও বাড়ে। এর সঙ্গে পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।


বাজারে আলু প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সিমের দাম কেজিতে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৪০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপির আকারভেদে দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।


বিক্রেতারা বলছেন, শুধু শুক্রবারের চাহিদা নয়, সবজির দাম নির্ধারণে পাইকারি বাজারের দর, সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও মৌসুমের প্রভাব রয়েছে। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে কয়েকটি সবজির দাম কমতে পারে। তবে শুক্রবারে বাড়তি চাহিদার কারণে বাজারে দামের চাপ কিছুটা বেশি থাকার আশঙ্কা করছেন তারা।


সাহেববাজারে হাসান নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, শুক্রবার ক্রেতা বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারেও চাহিদা বাড়ে। অনেক সময় সেখান থেকে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়াতে হয়।


আরেক বিক্রেতা মাজহার বলেন, শুক্রবারে পরিবারের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। এদিন একসঙ্গে কয়েক দিনের বাজার করার প্রবণতা বেশি। ফলে বেগুন, সিম, কাঁচা মরিচ ও অন্যান্য সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। সরবরাহ কম থাকলে তখন দাম বাড়ে।


তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, শুক্রবারকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ার বিষয়টি এখন নিয়মিত হয়ে গেছে। নগরীর হেতেমখাঁর বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহের অন্য দিন যে সবজির দাম কিছুটা কম থাকে, শুক্রবার সেটির দাম বেশি চাওয়া হয়। ফলে ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।


সাগরপাড়ার ক্রেতা সেলিনা আক্তার বলেন, আগে পরিবারের জন্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণ সবজি কিনতেন। এখন দাম বেশি থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। একেকটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি হলে পুরো বাজারের খরচে তার প্রভাব পড়ে।


আরেক ক্রেতা মাইনুল হাসান বলেন, শুক্রবার বাজারে মানুষের ভিড় বেশি থাকে। এই সুযোগে কোনো কোনো বিক্রেতা বেশি দাম চান। একই বাজারে পাশাপাশি দোকানে একই সবজির দামেও পার্থক্য দেখা যায়। তাই বাজারে আসার আগে দাম সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ক্রেতাদের বেশি টাকা দিতে হয়।


এদিকে খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১৩ টাকায়। আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২টাকায়  সে হিসাবে বাদামি ডিম এক হালি ৫২ টাকা। পাড়া-মহল্লার কোনো কোনো দোকানে হালি ৫৪-৫৬ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিম। ফলে দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সীমিত আয়ের পরিবারগুলো।


এদিকে মাছের বাজার এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।


মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। খাসির মাংসও ১২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।