রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা : ১০ দিনেও গ্রেপ্তার নেই, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা। তবে এখনো তদন্ত চলার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে হামলার পরও বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিকেরা।
গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ-উজ-জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় মামলা করা হয়। হলের উপ-রেজিস্ট্রার মোনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে মামলা দায়েরের ১০ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরজুন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।’ হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করার পরও কেন গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই ফোন কেটে দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব ফুটেজ ও ছবির মাধ্যমে হামলায় জড়িত কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। এরপরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্তের অগ্রগতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল বলেন, ‘ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শাখা ছাত্রদল এমনকি পুলিশ প্রশাসন আমাদের এমন কোনো আশ্বাস দেয়নি, যার কারণে আমরা নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে পারব। আমরা এখনো বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছি। আমাদের এখনো নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করতে হচ্ছে।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।