বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

কৃষি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় রাজশাহীতে ২২ নারী পেলেন সম্মাননা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন
কৃষি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় রাজশাহীতে ২২ নারী পেলেন সম্মাননা

খরা মোকাবিলা, দেশি বীজ সংরক্ষণ, প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাজশাহীতে ২২ জন গ্রামীণ নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


পবা, তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এলাকার এসব নারী দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়, বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ, জৈব পদ্ধতিতে কৃষিকাজ, ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন, পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষ এবং পরিবেশবান্ধব চুলার ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করছেন। তাঁদের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিজীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নারীদের মধ্যে কৃষিবিষয়ক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে শিল্পী বেগম পাঁচ জাতের ২৩০টি প্রাণিসম্পদ পালন ও ২৫ ধরনের বীজ বিনিময় করছেন। আয়েশা বেগম সংরক্ষণ করছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের উপযোগী ১৪ জাতের দেশি কলা। মিনারা বেগম ছয়টি গ্রামের ১২০ জন নারীকে পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মার্জিনা টুডু ৪৭ জাতের বীজ সংরক্ষণ ও ১০টি গ্রামের ১৭৫ জন নারীর মধ্যে বীজ বিনিময় করেছেন। জেসমিন বেগম ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশনের পবা উপজেলা সভাপতি রহিমা বেগম। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির রাজশাহী জেলা সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক এবং স্থানীয় কৃষক, নারী সংগঠক ও পরিবেশকর্মীরা।


বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ নারীরা বীজ সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থানীয় জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নারীর নেতৃত্ব উৎসাহিত করাই এ সম্মাননার লক্ষ্য।


সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে চিচিলিয়া হেমব্রম খরাপ্রবণ এলাকায় পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষ ও বীজ বিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নাচোলের শাহানা বেগম জানান, তিনি সাত গ্রামের ১১০ জন নারীকে জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা শিখিয়েছেন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, বিষমুক্ত কৃষিচর্চা এবং কৃষি-সংস্কৃতি সংরক্ষণে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।