ইউপি নির্বাচনে প্রতি কেন্দ্রে থাকবে ২২ সদস্যের নিরাপত্তা দল
আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। পাঁচ ধাপে ২৭ মে’র মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নভিত্তিক মোবাইল ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে কমিশন। এসব বৈঠকে বাহিনীগুলোর জনবল, দায়িত্ব বণ্টন ও নির্বাচনি এলাকায় মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তখন তারা জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করবেন।
গত ১২ অক্টোবর কমিশন সভায় পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এর আগে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে ধাপ কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। ভোটের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঈদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও বিশ্ব ইজতেমাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ইসির প্রাথমিক নিরাপত্তাকাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২২ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রস্তাবিত কাঠামোয়, অস্ত্রসহ একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে চারজন সশস্ত্র পুলিশ কনস্টেবল, দুজন সশস্ত্র আনসার সদস্য এবং লাঠিসহ ১৫ জন আনসার বা গ্রাম পুলিশ সদস্য রাখার কথা রয়েছে।
আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে: নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ১৫ জন আনসার বা গ্রাম পুলিশ সদস্যের মধ্যে আটজন পুরুষ ও সাতজন নারী সদস্য থাকবেন।
কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়েও বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ইউনিয়নভিত্তিক মোবাইল ফোর্স গঠন ও প্রতি তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যদেরও নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে, বাহিনীভিত্তিক চূড়ান্ত জনবল, দায়িত্ব বণ্টন ও মোতায়েনের বিস্তারিত সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে বৈঠক এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবে কমিশন। নির্বাচনি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে নিরাপত্তাব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে এবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দায়িত্বে থাকা পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো এবং ড্রোনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও জনবল সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ধাপে আয়োজন করা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটে। তবে, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করছি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারব।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি