শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

‘সৌর সেচযন্ত্রের সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রশিক্ষণ জরুরি’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ন
‘সৌর সেচযন্ত্রের সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রশিক্ষণ জরুরি’

বরেন্দ্র অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে যন্ত্রের সঠিক পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহীতে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সোলার সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) কর্মসূচির উদ্যোগে এবং সুপার স্টার রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেডের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।


জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের সেচসেবা আরও নিরবচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ-সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং পানির অভাবে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক সেচব্যবস্থা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের সেচব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বিএমডিএর আওতাধীন ১৫ হাজার গভীর নলকূপ ও লো লিফট পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। বর্তমানে বিএমডিএ প্রতিবছর বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে। সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা গেলে এ ব্যয় কমিয়ে বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


তিনি আরও বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিএমডিএর রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট থেকেও আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পিএন্ডডি পার্টনার প্রোগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম। তিনি বলেন, সৌর সেচব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষ জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আধুনিক যন্ত্র স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো গেলে সেচযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা এবং কৃষকদের সময়মতো সেবা দেওয়া সহজ হবে।


প্রশিক্ষণে সোলার প্যানেল, পিভি জাংশন বক্স, পাম্প কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, পাম্প ও মোটরের কার্যপদ্ধতি এবং স্বয়ংক্রিয় সুইচিং ডিভাইস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া পাম্প চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পানির প্রবাহ ও মোটরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, কন্ট্রোলারের ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ, মো. জিন্নুরাইন খান ও মো. তরিকুল ইসলাম; নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল আলী সরকার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. আতিকুর রহমান; সুপার স্টার রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফুল ইসলাম এবং ডেপুটি ম্যানেজার মো. আশিক রাব্বি উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে বিএমডিএর রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও মেকানিকসহ ৩০ জন অংশ নেন।


আয়োজকদের আশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সৌর সেচযন্ত্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা


বাড়বে। এর ফলে সেচব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী ও টেকসই করার উদ্যোগ জোরদার হবে।