রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চূড়ান্ত সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে চূড়ান্ত সমন্বয় সভা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে চূড়ান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, জনসভাস্থলের প্রস্তুতি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।


আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া পাট ও আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে চলছে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির কাজ। একই সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। সহযোগিতা করছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম নূর মোকাররম সভায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।


সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।


সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সফর নির্বিঘ্ন করতে নিজ নিজ দপ্তরের প্রস্তুতি তুলে ধরেন। এ সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম নূর মোকাররম বলেন, ‘আজকেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন থেকে কোনো ধরনের অজুহাত শোনা হবে না।’ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুত থাকার এবং নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিংবা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন না। এ জন্য আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মন্দির কমিটি ও তথ্য অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নামের তালিকা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


নিরাপত্তা ও জনভোগান্তি এড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচলে সড়কে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। চলমান উন্নয়নকাজের মালামাল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে অথবা সুন্দরভাবে ঢেকে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের অনুমতি ছাড়া কোনো ড্রোন ওড়ানো যাবে না।


প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেডিকেল দল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা এবং জনসভায় উপস্থিত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয় সভায়। পাশাপাশি সফর ঘিরে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।