দুর্গাপুরে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ৩৮০ এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ
পেঁয়াজের অপচয় কমানো, কৃষকের লাভ বাড়ানো এবং মৌসুমের বাইরে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ৩৮০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কয়েকটি ধাপে উপজেলার পেঁয়াজচাষিদের মধ্যে এসব মেশিন বিতরণ করা হবে।
শনিবার সকালে আয়োজিত এ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সংরক্ষণব্যবস্থারও উন্নয়ন করতে হবে। এয়ারফ্লো মেশিনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ক্ষয়ক্ষতি কমবে। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের মৌসুমে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হতে হবে না। সরকারি সহায়তায় আধুনিক সংরক্ষণপ্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগের সুফল যাতে প্রকৃত পেঁয়াজচাষিরা পান, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, দুর্গাপুরে এ বছর ৩৮০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে পেঁয়াজচাষিদের হাতে এসব মেশিন পৌঁছে দেওয়া হবে। আধুনিক সংরক্ষণপ্রযুক্তির ব্যবহারে পেঁয়াজের অপচয় কমানো, কৃষকের লাভ বাড়ানো এবং মৌসুমের বাইরে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে মৌসুম শেষে সরবরাহ কমে যায়। এতে অফ-সিজনে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এয়ারফ্লো প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।