খুলনায় নদীর পাড়ে পড়ে ছিল দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ
খুলনার রূপসা উপজেলায় আঠারো বাকী নদী-সংলগ্ন একটি কলাবাগানের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের চরমোছাব্বরপুর গ্রামের হাবিবের কলাবাগানের উত্তর পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুজন হলেন রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও একই উপজেলার সিংহেরচর এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম (৩০)। নিহত সোহাগ স্থানীয় জেলখানা ঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নদীর কাদার মধ্যে প্রথমে একটি মরদেহ ও কিছুক্ষণ পর একই স্থানে দ্বিতীয় মরদেহটি ভাসতে দেখে রূপসা থানায় খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতীর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, নিহত মেহেদী হাসান সোহাগ স্থানীয় সন্ত্রাসী দল ‘বি কোম্পানি’র সদস্য ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে রূপসা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম জানান, দুপুরের দিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে এসআই আরও জানান, কী কারণে বা কোন শত্রুতার জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত যুবকদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো মামলা ছিল কি না অথবা তাঁরা কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এসআই আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান নদী থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার নেপথ্য কারণ ও মৃত্যুর সঠিক সময় অনুসন্ধানে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, গত দুই দিনের ব্যবধানে খুলনায় পরপর জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর নদী থেকে এই দুই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার রায়মহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় নিহত হন তাঁতী দল নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির। এর আগের দিন শনিবার রাতে নগরের দারোগাপাড়া এলাকায় চাপাতির কোপে খুন হন শহিদুল (৩৫) নামের আরও এক যুবক।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অনলাইন