ঈশ্বরদীতে দুই নারী লাশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ মায়ের মৃত্যু, স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক দিনে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ও রাতে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ও সলিমপুর ইউনিয়নের খড়েরদাইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আয়েশা বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের খড়েরদাইড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা বেগম খড়েরদাইড় গ্রামের মৃত আতর আলীর স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে প্রতিবেশী মজিদ আলীকে গরুচোর সন্দেহ করে অপবাদ দেন আয়েশা বেগমের ছেলে সালাম হোসেন। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে আবারো সালাম ও পিন্টুর বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হলে আয়েশা বেগম ছেলে সালামকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এসময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আহত হন আয়েশা বেগম। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন শুক্রবার সকালে বাঘইলে ঈশ্বরদী ইপিজেড মোড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে পিয়ারা খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে লাশ ফেলে স্বামী হাফিজুর রহমান পালিয়ে গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, নিহত পিয়ারা খাতুন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের মো. ইব্রাহিমের মেয়ে ও একই এলাকার হাফিজুর রহমানের স্ত্রী।
তারা ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরির খোঁজে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ইপিজেড মোড়ের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। প্রতিবেশীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। শুক্রবার সকালে ওই বাসা থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা খোঁজ নিতে গিয়ে দেখতে পান পিয়ারা খাতুনের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে।
পরে পাকশী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেম করতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) এ.বি.এম. মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয়েছে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর স্বামী হাফিজুর পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর জানান, দুটি ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।