রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব পুতিনের, তাহলে নেটোই ‘কাগুজে বাঘ’?

WP Import ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৭:৫৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব পুতিনের, তাহলে নেটোই ‘কাগুজে বাঘ’?
ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব পুতিনের, তাহলে নেটোই ‘কাগুজে বাঘ’?

সোনার দেশ ডেস্ক:


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবে ভ্লাদিমির পুতিন উল্টো নেটোকেই একধরনের ‘কাগুজে বাঘ’ ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি ইউক্রেইনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় তাহলে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে মোড় নিতে পারে।
ইউক্রেইনে রাশিয়ার যুদ্ধ ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল ক্রাইসিসের পর মস্কো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে; এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে হওয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

রুশ কর্মকর্তারাও বলছেন, তারা এখন সম্মিলিত পশ্চিমের সঙ্গে ‘তপ্ত’ সংঘর্ষের মধ্যে রয়েছেন।
কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী সোচিতে ভালদাই ডিসকাশস গ্রুপে দেওয়া বক্তৃতায় বৃহস্পতিবার পুতিনও ওই কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার বাহিনী ইউক্রেইনের যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বত্রই তুমুল গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন নেটো জোটের প্রায় পুরোটাই এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মস্কোর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রথম দিকে কিইভকে ভূমির দাবি ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া ট্রাম্প সম্প্রতি অবস্থান বদলেছেন। কয়েকদিন আগে তিনি বলেছেন, ইউক্রেইন রাশিয়ার দখলে যাওয়া সব ভূমি উদ্ধার করতে পারবে বলে তিনি মনে করছেন। সেসময় তিনি মস্কোকে ‘কাগুজে বাঘ’ও আখ্যা দেন।

“কাগুজে বাঘ। এরপর কী হবে? যাও এই কাগুজে বাঘকেই সামলাও। আমরা যদি পুরো নেটো ব্লকের সঙ্গে লড়ি, এরপর অগ্রসরও হই, এবং আমরা নিজেদেরকে আত্মবিশ্বাসী মনে করছি, তারপরও আমরা ‘কাগুজে বাঘ’, তাহলে নেটো কী?” বলেছেন পুতিন।

ইউরোপজুড়ে রুশ ড্রোন দেখতে পাওয়ার দাবি নিয়েও মজা করেন তিনি।
“আর পাঠাবো না। ফ্রান্স বা ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আর ড্রোন পাঠাবো না। কোথায় কোথায় যে এগুলো উড়ে যায়?
“সিরিয়াসলি বলি, আমাদের এমন ড্রোনই নেই যা লিসবন পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে,” বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেইনে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
“মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া টমাহক ব্যবহার করা অসম্ভব। এমন কিছু ঘটলে তা হবে পুরোপুরি নতুন, মান বিবেচনায় নতুন পর্বের উত্তেজনা বৃদ্ধি, এর মধ্যে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কও পড়বে,” বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেইনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।
ইউক্রেইনকে গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া নেটো সদস্যরা এখন ‘রাশিয়া নেটোর সদস্যদের আক্রমণ করবে’ এমন জল্পনা ঘিরে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করছে তাও উড়িয়ে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বলেন, “এটা বিশ্বাস করাও অসম্ভব।”

“কারও যদি এখনো সামরিক অঙ্গণে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আকাঙ্ক্ষা থাকে, যেটা আমরা বলি, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চেষ্টা করুক। রাশিয়ার পাল্টা ব্যবস্থার বেশি দেরি হবে না,” বলেছেন তিনি।
পুতিন ইউক্রেইন যুদ্ধকে মস্কোর সঙ্গে পশ্চিমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে আসছেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পশ্চিমারা নেটোকে বাড়িয়ে, মস্কোর ছায়ায় থাকা অঞ্চলগুলোতে হাত দিয়ে রাশিয়াকে অপমান করেছে বলেও তার ভাষ্য।
ইউক্রেইন ও তার পশ্চিম ইউরোপীয় মিত্ররা এ যুদ্ধকে মস্কোর সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় জমি দখলের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, রাশিয়াকে পরাজিত করা না গেলে এরপর পুতিন নেটোর কোনো সদস্য দেশে হামলার ঝুঁকি নেবেন।

“আমি কেবল বলতে চাই, মাথা ঠান্ডা করো, শান্তিতে ঘুমাও এবং নিজেদের সমস্যার দিকে মনোযোগী হও। ইউরোপের রাস্তাগুলোতে কী হচ্ছে সেদিকে নজর দাও,” বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেইনের সশস্ত্র বাহিনীতে পর্যাপ্ত সদস্য নেই এবং অনেকে বাহিনী ছেড়ে পালাচ্ছে জানিয়ে তিনি কিইভকে যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনায় বসতে বলেন।
রাশিয়া প্রায় পুরো লুহানস্ক প্রদেশ, দোনেৎস্কের ৮১% এবং জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের প্রায় ৭৫% কব্জায় নিয়ে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ