কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার : থমকে আছে ঈশ্বরদীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ ৩ বছর আগে শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে এর নির্মাণ কাজ। এই ৩ বছরে এখনো কাজের অর্ধেক বাকি অথচ কাজ ফেলে উধাও হয়েছেন ঠিকাদার। মাস ছয়েক আগে ভবনের ছাদ পর্যন্ত কাজ করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সবাই চলে গেছে সাইট থেকে।
ফলে রড, ইট ও বালুসহ নির্মাণ কাজের মালামাল বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে।
একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনের নিচতলায় চলছে অফিসের কার্যক্রম। অন্যদিকে নির্মাণাধীন নতুন ভবনের সামনে ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রীর ওপর ধুলো-বালি ও শ্যাওলা জমে গিয়ে মনে হচ্ছে যেন এটি বহুদিনের পরিত্যক্ত স্থাপনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে। কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বার্ডস কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের কথা ছিল।
কিন্তু শুরুতেই স্থানীয় সাব ঠিকাদারদের কাছ থেকে সামগ্রী নিয়ে আংশিক কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কাজ এগোয়নি। প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রভাব খাটিয়ে বার্ডস কনস্ট্রাকশন বিভিন্ন জেলায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়েছিল। কিন্তু একটি কাজও সময়মতো শেষ করতে পারেনি। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বারবার কাজ স্থগিত করেছে তারা।
ঈশ্বরদীর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করে জানান, উপকরণে অনিয়ম হয়েছে। দরপত্র-সংক্রান্ত নথি চাইলে প্রকৌশল বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা দেখাতে রাজি হয়নি। প্রজনন কেন্দ্রের অফিস সহকারী মো. আজহার আলী বলেন, ‘২০২২ সালে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে কতবার যে কাজ বন্ধ হয়েছে, তার হিসাব নেই।
এখন নির্মাণাধীন এই ভবনের ভেতর মাদকসেবীদের আড্ডা বসে নিয়মিত’। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আদনান ইসলাম জানান, ‘এক বছরের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন অংশে পানি জমে শ্যাওলা পড়ে গেছে। রাত হলে মাদকসেবীরা ভিড় করে এখানে। এই অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে বার্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সীমান্ত বলেন, সরকার ফান্ড না দেওয়ায় রাগ করে কাজ বন্ধ রেখেছি। টাকা পেলে আবার কাজ শুরু করব। জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছরেও ভবনের কাজ শেষ হয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।
এলডিডিপি প্রকল্পের পরিচালক ডা. জসিমউদ্দীন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আমরাও বিব্রত। সময় অনেক গড়িয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুণরায় কাজ শুরা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে কাজ শেষ করা যায়।