কর্মবিরতির কারণে ক্লাসরুমে তালা, গাছতলায় ক্লাস নিলেন রাবি অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম

গাছতলায় একটি চায়ের দোকানে বসে ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম
রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজেদের সন্তানদের ভর্তিতে পোষ্য কোটা ফিরে পেতে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মবিরতির কারণে বিভাগগুলোর ক্লাসরুমগুলোও খোলা হয়নি। ক্লাসরুমে তালা মারা থাকায় গাছতলায় বসে ক্লাস নিয়েছেন আইন বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম (পিটার)। এমন শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসার করছেন অনেকে।
জানা যায়, রোববার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের দক্ষিণ পাশের পকেট গেটের সামনে গাছতলায় একটি চায়ের দোকানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম। শিক্ষার্থীরা ব্যাগ, খাতা, কলম নিয়ে বসেছেন তার সামনে। গোল হয়ে চারপাশে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন, শুনছেন শিক্ষকের কথা। প্রশ্নও করতে দেখা গেল এক শিক্ষার্থীকে।
আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, পোষ্য কোটার জন্য কর্মবিরতির কারনে বিভাগে এসে দেখতে পাই অফিসকক্ষ ও ক্লাসরুম তালা দেওয়া। রুটিন অনুযায়ী আজ পিটার স্যারের ক্লাস ছিল। স্যার নিজেও ক্লাস নিতে এসে এমন চিত্র দেখেন। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই বাইরে গাছতলায় কোথাও ক্লাস করবো। পরে এখানে এসে স্যার ক্লাস নিলেন।
এ বিষয়ে মোর্শেদুল ইসলাম পিটার বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমার প্রধান দায়িত্ব কি? নিশ্চয় ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা। আমি আমার সেই দায়িত্বটুকুই পালন করেছি। এর বাইরে কিছু বলতে চাই না।
এদিকে অধিকাংশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালনের মধ্যে গাছতলায় ক্লাস নেওয়ায় অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলামের প্রশংসা করছেন অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আসলাম কবির বলেন, এধরণের শিক্ষকরা সম্মান অর্জন করেন। অন্য শিক্ষকরা সম্মানের জন্য লালায়িত থাকেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব আহমেদ অপূর্ব বলেন, এমন শিক্ষকদের সাথে কেউ কখনো উঁচু গলায় কথা পর্যন্ত বলবেনা, মারামারি-হাতাহাতি অনেক পরের ব্যাপার। সম্মান আপনা আপনি আসেনা, অর্জন করে নিতে হয়।