রাবিতে শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা

রাবি প্রতিবেদক :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্যকোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর পাশে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।
তাদের দাবিগুলো হলো- শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (পোষ্যকোটা) প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব দাবি না মানা হলে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে এই কর্মবিরতি চলমান থাকবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাবেয়া আক্তার বলেন, আমরা পোষ্য কোটা নয় বরং প্রতিষ্ঠানিক সুবিধার কথা বলছি। আর শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত সুনাম নষ্ট হলো।
শিক্ষক লাঞ্ছনার এ ঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতাও বলছেন কেউ কেউ। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এটা পোষ্য কোটা নয়। দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নেই। যদি প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাদ দিতেই হয়, তাহলে সারা দেশেরই প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাদ দিতে হবে।
এর আগে, গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং শিক্ষক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরি একাডেমিক সভায় পোষ্যকোটা পুনর্বহালের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাবেক সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাত ১১টা পর্যন্ত আন্দোলন চালান তাঁরা। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর এদিন বিকেলে পোষ্যকোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
রাতভর আমরণ অনশনের পর শনিবার দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এসময় তাঁরা তাদের পাশ দিয়ে যাওয়া উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকায় এবং সেখানে টাকা ছুড়ে মারে।
এরপর তাঁরা উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন খানের বাসভবনে তালা লাগিয়ে দেন। উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে ঢুকতে গেলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয় তাকে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
জুবেরী ভবনে অবস্থানের পর রাত সাড়ে দশটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পোষ্য কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে অবস্থান ত্যাগ করেন তাঁরা।