রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি

WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি

রাবি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি আজ

রাবি প্রতিবেদক:


পোষ্যকোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে এই ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পূর্ণদিবস কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তাঁরা। দাবী না মানা হলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ (শনিবার) আনুমানিক দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) দাপ্তরিক কাজ শেষে দুপুরের খাবারের জন্য বাসায় যাবার জন্য গাড়িতে ওঠেন। এমতাবস্থায় কতিপয় ছাত্র তাঁকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয় এবং অশালীন উক্তিসহ তাঁর গাড়ির উপরে ভিক্ষা হিসাবে টাকা ছুড়ে দেয়। এরপর হেঁটে তার বাসায় ঢুকতে গেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। অনন্যপায় হয়ে তিনি জুবেরী ভবনে গেলে তাকে ঘিরে নানা ধরনের কটুক্তি করে ও তাকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে থাকে।

প্রকটরসহ তার বডির সদস্যবৃন্দ তাকে (উপ-উপাচার্য) প্রোটেকশন দেয়ার চেষ্টা করলে প্রক্টরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সহ তার পকেট হতে ১০ হাজার টাকা ও তার হাত ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। প্রোভিসি মহোদয় নিরুপায় হয়ে জুবেরী ভবনের দোতালায় একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে গেলে তার গলা চেপে ধরে ও তাঁকে ধাক্কা মেরে সিঁড়িতে ফেলে দেয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুবেরী ভবন একটি আবাসিক ও ক্লাব ভবন। এখানে অনেক পরিবার বাস করে যার মধ্যে স্ত্রী কন্যা শিশুরাও আছে। জুবেরী ভবনের অবস্থানরত কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ ও খাবার পানির ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা সেখানে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিসহ স্লোগান দিচ্ছে যার ফলে ওই ভবনে একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ভবনের পরিবারগুলি আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় আছে।রাবির প্রাক্তন প্রক্টর ও রাকসুর নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ডঃ এনামুল হক সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। উপরোক্ত ঘটনাবলী আসন্ন রাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মনে করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় তারা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। এসময় তারা উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকায় এবং সেখানে টাকা ছুঁড়ে মারে। এরপর তাঁরা উপ-উপাচার্য মাইন উদ্দিন এর বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে তিনি তার বাসভবনে প্রবেশ করতে পারেন নি। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জুবেরি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারও বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষকদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়।
এই ধ্বস্তাধস্তিতে শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছে।

এই আন্দোলনকারীদের একজন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাবির সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমি মার খেলেও, আমার কারও উপর কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু পোষ্য কোটা নামেই হোক বা অন্য নামেই হোক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কোন ধরনের পোষ্য কোটা থাকবে না। প্রয়োজনে আমরা আমাদের জীবন দিয়ে দিব।

এ ব্যাপারে প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্যারকে অবরুদ্ধ করে তাঁর বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে আমরা জুবেরী ভবনের লাউঞ্জে বসি। সেখানে শিক্ষার্থীরা আবারও আমাদের বাধা দেয়। আমরা ফিরে গিয়ে পুনরায় আসার পর ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁরা আবারও বাধা দেয়। এসময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই আমার হাতের ঘড়ি ও সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কি হতে পারে, কিন্তু আমার হাতের ঘড়ি ও ১০ হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে শুক্রবার বিকাল থেকে আমরণ অনশনে বসে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আরো ৯ জন শিক্ষার্থী অনশনে যুক্ত হয়।