রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

অটোমান সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এই ভারতীয় রাজকুমারী, অমান্য করেছিলেন খিলাফতের ফরমান, আকবর ছিলেন তাঁর আত্মীয়

WP Import ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:১৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:১৪ অপরাহ্ন
অটোমান সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এই ভারতীয় রাজকুমারী, অমান্য করেছিলেন খিলাফতের ফরমান, আকবর ছিলেন তাঁর আত্মীয়
অটোমান সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এই ভারতীয় রাজকুমারী, অমান্য করেছিলেন খিলাফতের ফরমান, আকবর ছিলেন তাঁর আত্মীয়

সোনার দেশ ডেস্ক:


সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করার কারণে। অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনকালে দুই দেশের মধ্যে পুরনো ইতিহাসও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্ব এবং সংঘর্ষ। এ সবের মধ্যেও রয়েছে সাহসিকতার এমনই এক অসাধারণ গল্প। মোঘল সম্রাট বাবরের কন্যা এবং সম্রাট আকবরের পিসি মোঘল রাজকন্যা গুলবদন বেগমের একা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

কে এই গুলবদন বেগম?
গুলবদন বানো বেগম আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন মোঘল সম্রাট বাবর এবং তাঁর স্ত্রী দিলদার বেগমের কন্যা। নানা বিবরণ থেকে আমরা জানতে পারি যে, গুলবদনের বিয়ে হয়েছিল ১৭ বছর বয়সে তাঁর খুড়তুতো ভাই চাগতাই রাজপুত্র খিজির খাজার সঙ্গে। যিনি ছিলেন তাঁর বাবার খুড়তুতো ভাই আইমান খাজা সুলতানের ছেলে।
তিনি হুমায়ুন-নামা লেখার জন্য বিখ্যাত। এটি তাঁর সৎ ভাই সম্রাট হুমায়ুনের জীবন ও সময়কালের একটি প্রামাণিক বিবরণ। এটি গুলবদন হুমায়ুনের পুত্র এবং উত্তরসূরি সম্রাট আকবরের অনুরোধে লিখেছিলেন।
হুমায়ুন নামা তাঁর অনবদ্য লেখনীর এক উজ্জ্বল প্রদর্শন হলেও, অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাঁর রুখে দাঁড়ানোর গল্প খুব কম লোকই জানেন। তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শক্তিশালী খিলাফতের বিরুদ্ধে। ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পতনের আগে পর্যন্ত মিশর, গ্রীস, তুরস্ক, রোমানিয়া, ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া এবং আরব উপদ্বীপের একটি বিশাল অংশে তুরস্ক শাসন করেছিল। এই শাসনকেই খিলাফত বলা হত।

কীভাবে মুঘল রাজকুমারী শক্তিশালী অটোমান সাম্রাজ্যকে প্রতিহত করেছিলেন?
ইতিহাসবিদদের মতে, হুমায়ুনের বোন এবং সম্রাট আকবরের পিসি গুলবদন বেগম ঘুরতে খুব পছন্দ করতেন। মোঘল সাম্রাজ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণের সময় প্রায়শই একটি বিশাল দলবল নিয়ে যেতেন। গুলবদন মক্কায় হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ইসলামের পবিত্রতম নগরীতে পৌঁছনোর পর, দরিদ্র ও নিপীড়িতদের মধ্যে সম্পদ বিতরণ শুরু করেন। মোঘল রাজকুমারী দানশীল ছিলেন।

সেই সময় সম্রাট আকবরের অধীনে মোঘল সাম্রাজ্য বিকশিত হচ্ছিল এবং একটি শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। আকবরের সাম্রাজ্যের সামনে মধ্যযুগের অন্যান্য শক্তিশালী সাম্রাজ্যের শক্তিকে ছোট বলে মনে হচ্ছিল।

কেন অটোমান সাম্রাজ্য গুলবদন বেগমের বিরুদ্ধে ফরমান জারি করেছিল?
গুলবদন বেগমের নিঃস্বার্থ দানধ্যান তৎকালীন আরব উপদ্বীপে শাসনকারী শক্তিশালী অটোমান সাম্রাজ্যে ক্রোধের জন্ম দেয়। কারণ অটোমান খলিফা একজন বিদেশী রাজকন্যাকে খিলাফতের প্রজাদের মধ্যে সম্পদ বিতরণকে ভালভাবে নেননি।

শীঘ্রই, অটোমান সাম্রাজ্য একের পর এক চারটি ফরমান জারি করে, যেখানে গুলবদনকে আরব ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু সাহসী রাজকুমারী প্রতিটি ফরমান লঙ্ঘন করে মক্কা এবং আরবের কিছু অংশে অবাধে ঘোরাফেরা করতে থাকেন।

অবশেষে, অটোমান খিলাফত কর্তৃক অশ্লীল ভাষায় ভরা পঞ্চম ফরমান জারি করা হয়। যা সম্রাট আকবরকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি তখন তাঁর পিসিকে ভারতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কারণ তিনি একজন মুঘল রাজকন্যার বিরুদ্ধে অটোমানদের এমন নোংরা ভাষা ব্যবহার সহ্য করতে পারেননি।
তথ্যসূত্র: আজকাল