রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রামেক হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড

WP Import ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩০ অপরাহ্ন
রামেক হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড
রামেক হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:


দেশে প্রথমবারের মতো সাপে কাটা রোগীদের জন্য করা হচ্ছে বিশেষায়িত ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে থাকছে ১২টি শয্যা। এ মাসে চালু করতে চাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ওয়ার্ডে সাপে কাটা রোগীদের তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

এর আগে ডেঙ্গু, করোনা ও নিপাহ ভাইরাসের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছিল। সম্প্রতি সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এর মৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্নেক বাইট ক্লিনিক করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্প্রসারিত অংশে সাপে কাটা রোগীদের জন্য ওয়ার্ড চালু করা হচ্ছে। এই ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি স্নেক বাইটের (রাসেলস ভাইপার) ওপরে পিএইচডি করছেন। তার গবেষণা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, এরই মধ্যে এই ওয়ার্ডের জন্য আট নার্স বাছাই করা হয়েছে। ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের স্নেক বাইটের ন্যাশনাল গাইড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর হার ছিল ২৭ শতাংশ। চিকিৎসা দেওয়ার কারণে এ হার কমেছে। সাপে কাটা রোগীদের জন্য ওয়ার্ড চালু হওয়ার পর থেকে সাপে কাটা সব রোগী সেই ওয়ার্ডে ভর্তি হবেন। সেখানে তাদের চিকিৎসা ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) হবে, যাতে মৃত্যুর হার কমানো যায়, এই উদ্দেশ্যেই এটা করা হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক নার্স ও চিকিৎসক থাকবেন। পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার প্রতি ডোজের দাম পড়বে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এক ডোজের জন্য ১০ ভায়াল লাগে। কোনো কোনো রোগীর একাধিক ডোজের প্রয়োজন পড়ে। হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ পাবেন রোগীরা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে আসা সাপে কাটা রোগীদের মধ্যে কেউটের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সাপে কাটা রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬ জন। এর মধ্যে বিষধর সাপে কাটা রোগী ছিলেন ২০৬ জন এবং অন্যান্য সাপে কাটা রোগী ছিলেন ৮০০ জন। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে মারা গেছেন ১০ জন। কেউটে সাপের কামড়ে মারা গেছেন ১৩ জন। গোখরা সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। গোখরা বা অন্যান্য সাপের কামড়ে মারা গেছেন তিনজন।