রাকসু নির্বাচন, প্রচারণার তৃতীয় দিনে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি স্মারকলিপি

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট হাতে গোনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। তার কিছু পরেই পাল্টা হিসেবে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার দাবি করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রচারণার তৃতীয় দিনে এসে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থিত প্রার্থীরা। স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রদলের প্রার্থীরা। ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা সাত দফা দাবি জানিয়েছে। ছাত্রদলের স্মারকলিপি দেওয়ার তিন ঘণ্টা পর ছাত্রশিবির স্মারকলিপি দেয়।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই সংগঠনের প্রার্থীরা রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই স্মারকলিপি দিয়েছে। ছাত্রদল এদিন দুপুর ১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলামের কাছে এই স্মারকলিপি তুলে দেয়। এদিন বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরাও স্মারকলিপি দেয়।
ছাত্রদলের ছয় দাবি
নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। ছাত্রদল মনোনিত ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর এসব দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার, ভুয়া ও জাল ভোট প্রতিরোধে ছবি-যুক্ত ভোটার তালিকা প্রদান, ডিজিটাল কারচুপি ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ঠেকাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা, ভোট চলাকালীন বৈধ কার্ডধারী ছাড়া অন্য কাউকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচনে অবৈধ অর্থের প্রভাব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,আচরণবিধি সবার জন্য সমানভাবে পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবির বলেন, আমাদের প্রশাসনের মধ্যে একটা গা ছাড়া ভাব। আমি বলতে চাই, আপনারা আরো একটু সোচ্চার হোন। আমরা ভোট বর্জন করতে চাই না। আমরা চাই, অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমি আশাবাদী, সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হবে। এবং আমাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাকসু, সিনেট ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ইতিহাসে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের দাবির বিষয়ে রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের একটা দাবি নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের পাসধারীরা ছাড়া কেউ যেনো কেন্দ্রের ১০০ মিটারের ভেতরে যেতে না পারে, আমরা এই দাবিটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। নির্বাচনে আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করব, এটা বাস্তবায়নের পথে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নির্বাচনকে সুন্দর করার জন্য সবাই আন্তরিক আছেন সবাই চেষ্টা করছেন। যার যার জায়গা থেকে খুঁটিনাটি পরামর্শ দিচ্ছেন। সবারে সুন্দর পরামর্শে ২৫ তারিখ আমরা সুন্দর একটি নির্বাচন দেখতে পারবো।
ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভোট গণনায় বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারবলেন, এই যুগে এসে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা অনেক দূরহ একটি বিষয়। তার প্রমাণ আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি। কাজেই তাদের অন্য ৫ টি দাবি আমরা দেখেছি; নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন তাদের অন্য ৫টি দাবির ব্যাপারে আন্তরিক। ছাত্রদল অত্যন্ত বিজ্ঞ একটি দল। নির্বাচন কমিশন যেমন চায় নির্বাচন সুষ্ঠু-সুন্দর হোক, তারাও চায়। সুতরাং তারা বিষয়টি বুঝতে পারবে বলে আমি আশা করি।
সাত দাবি শিবির সমর্থিত প্যানেলের
ভোটের দিন জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে, পোলিং এজেন্টদের প্রবেশাধিকার ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আইডি কার্ডের ব্যবস্থা রাখা, শুধুমাত্র প্রশাসন অনুমোদিত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া, ভোট গণনার ক্ষেত্রে ত্রুটিমুক্ত ওএমআর মেশিন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া, কোনো প্রার্থী প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ করলে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং ভোটের দিন ক্যাম্পাসে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখার দাবি জানান তারা।
এ সময় ছাত্রশিবিরের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ এর প্যানেল থেকে সাত দফা দাবি দিয়েছি। তার মধ্যে অন্যতম, কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা, সাংবাদিকদের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থা করা, ত্রুটি মুক্ত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা, ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, ভোট গণনা প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো ইত্যাদি। আশাকরি, নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে।
তাদের দাবি প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি, তারাও মূলত সেই দাবিগুলো উপস্থাপন করেছে। আমরা সেই পদ্ধতিতেই নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করব।