রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

দুই মাস থেকে পড়ে থাকা গাছ সরাবে কে?

WP Import ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৯ অপরাহ্ন
দুই মাস থেকে পড়ে থাকা গাছ সরাবে কে?
দুই মাস থেকে পড়ে থাকা গাছ সরাবে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রার মোড়ে দুই মাস আগে বৃষ্টির কারণে উপড়ে পড়েছিল বিশাল আকৃতির কৃষ্ণচূড়া গাছ। দুই মাস থেকে গাছটি সড়কে পড়ে আছে। তবে এই গাছ সরানোর উদ্যোগ নেয়নি কেউ। স্থানীয়রা সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ ও বনবিভাগের অভিযোগ দিয়েও সাড়া মিলেনি। সড়কে গাছ পড়ে থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনাও।

এই সড়কটি দুই লেনে চওড়ায় প্রায় ৪৫ ফুট। সঙ্গে আছে নয় ফুটের ফুটপাত। গাছের বিশাল গুড়ি পড়ে থাকার কারণে সড়কটি সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারি, রিকশাচালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা। আর ভদ্রা দিয়ে বাস যাতায়াতের কারণে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি গাছটির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানান, ৯ জুলাই বৃষ্টির কারণে গাছটি উপড়ে পড়ে। এরপর গাছের গুড়ি ও মধ্য অংশ সড়কে পড়ে আছে। বাকিগুলো কিছু ব্যক্তি নিয়ে চলে গেছে। সেদিনই ফায়ার সার্ভিস সড়ক থেকে গাছের উপরের অংশ সরিয়ে ফেলে। তবে গাছের গুড়ি ও মধ্য অংশ সেখানে থেকে যায়। এরপর থেকে এই গাছটি আর কেউ সরায়নি। গাছের গুঁড়ি অপসারণ না করায় মোড়ের চারপাশে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়ে দুই মাস ধরে গাছের গুঁড়ি পড়ে থাকা অযৌক্তিক ও দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে অবিলম্বে এই গাছ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাছটি লাগিয়েছিলেন সেলিম নামে এক সাইকেলের মেরামতকারী। তিনি বলেন, ৩০ বছর আগে এই গাছটি আমি লাগিয়েছিলাম। কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালে অনেক পাখির বাসা ছিল। অনেকেই বিশ্রাম নিতেন এই গাছের নিচে এসে। মূলত টানা বর্ষণে মাটি নরম হওয়াতে গাছটির ডালপালা অনেক বড় হয়ে যায়। মাটি গাছের ওজন ধরে রাখতে পারেনি। তাই গাছটি হঠাৎ করে পড়ে যায় সড়কে।
ভদ্রার মোড়ের দোকান মালিক জনি শেখ বলেন, দুই মাস হয়ে গেল গাছ পড়ে আছে। আমাদের ব্যবসারও সমস্যা হচ্ছে। দোকানের সামনে জায়গাটা সংকুচিত হয়ে গেছে। ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে আসতে পারছেন না। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

রিকশাচালক রিয়াদ আলী বলেন, বড় গাড়ি যাতায়াত করার সময় ছোট গাড়িগুলোকে টার্নিং পয়েন্টে চাপ খেতে হয়। এই গাছ থাকায় জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে গেছে। রিকশা চালাতে খুবই কষ্ট হয়।
মোটরসাইকেল চালক মুনতাসির সাকিব সরাসরি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এই গাছের কারণে আমি নিজেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছি। শুধু আমি না, গত তিন মাসে অন্তত তিন থেকে চারটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব রুমানা আফরোজ বিষয়টি অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নেব। স্থানীয়রা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসেনি। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি দেখবো। ওয়ার্ড সচিবের সঙ্গে কথা বলে গাছ অপসারণ করা হবে।