চারঘাটে দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্যালক নিহত, আহত পাঁচ, গ্রেফতার ২

চারঘাট প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাটে দুলাভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন শ্যালক। এছাড়াও এই ঘটনায় আহত হয়েছের আরও পাঁচজন। এঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যালকের নাম অনিক হাসান হৃদয় (২৫)। আহতরা হলেন, কাবুল উদ্দিন (৩৮) ও বিপ্লব (২২), কাবুল উদ্দিনের স্ত্রী মুন্নী বেগম (৩২), আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল মান্না (২৫), জহির উদ্দিনের মেয়ে মেহেরুন্নেসা (৩৫)। এদের সকলের বাড়ি উপজেলার মোক্তারপুর আন্ধারীপাড়া। অভিযুক্তের নাম মিঠুন আলী।
এছাড়াও গ্রেফতাররা হলেন বাবর আলী ও রাজু আহম্মেদ। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক আছে। নিহত অনিক হাসান হৃদয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। হৃদয় মিঠুন আলীর চাচাতো শ্যালক।
স্থানীয়রা জানান, মোক্তারপুর আন্ধারীপাড়া গ্রামের ইয়ার উদ্দিনের মেয়ে রেখার সঙ্গে উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের জনৈক মজিবুর রহমানের ছেলে মিঠুন আলীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭ বছরের একটি ছেলে আছে। দীর্ঘদিন ধরে মিঠুন আলী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী রেখা বেগমকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। রোববার ভোররাতে মিঠুন আলী স্ত্রী রেখা বেগমের ভাই কাবুলকে ফোন করে জানায় তোর বোন মরে গেছে। লাশ নিয়ে যা।
রেখার ভাই কাবুল উদ্দিন, বিপ্লব, মুন্নী বেগম, আব্দুলমান্নান, মেহেরুন্নেসাসহ বাবুপাড়া রেখার স্বামী মিঠুন আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখে রেখাকে ব্যাপক মারপিট করা হয়েছে। এ নিয়ে দুইপরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিহলে অভিযুক্ত মিঠুন, রকি, রাজু, লিখনসহ দলবল নিয়ে অতর্কিতভাবে রেখার ভাই ভাবীদেন উপর লাঠিসোঠা নিয়ে মারপিট শুরু করে। আঘাত করতে থাকে চাকু দিয়ে একের পর এক। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে অনিক হাসান হৃদয় ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হয় রেখার পরিবারের আরও ৫ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বর্তমানে আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন রেখার চাচাতো ভাই লালন আলী। চাচাতো ভাই আব্দুল মতিন বলেন এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না । আসামীদের গ্রেফতার করে শাস্তিমুলক বিচার চাই।
চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত অনিক হাসান হৃদয়ের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।