সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইন অমান্য করে প্লাস্টিক বস্তায় চাল বাজারজাত

WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:২০ অপরাহ্ন
WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:২০ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইন অমান্য করে প্লাস্টিক বস্তায় চাল বাজারজাত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইন অমান্য করে প্লাস্টিক বস্তায় চাল বাজারজাত


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


আইন অনুযায়ী চাল বাজারজাতকরণে পাটের বস্তা বাধ্যতামূলক হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকল মালিকেরা সে আইন মানছেন না। জেলার অটো রাইস মিলগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। এসব চাল প্লাস্টিকের বস্তায় প্যাকেটজাত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারসে প্লাস্টিকের বস্ত ব্যাবহার হলেও তারা দেখে না দেখার ভান করছে।

সরকার দেড় দশক আগে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ প্রণয়ন করে খাদ্যশস্য, চিনি, সারসহ ১৭টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকলগুলোতে এ আইন কার্যত উপেক্ষিত।

চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালকল থেকেই প্লাস্টিকের বস্তায় সরবরাহ করায় তারা সেই বস্তাতেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সাশ্রয়ী মূল্যে পাটের বস্তা পেলে ব্যবহার করতে আপত্তি নেই তাদের।

চালকল মালিকদের দাবি, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাত করলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একটি ৫০ কেজির পাটের বস্তার দাম রকমভেদে ৫০ থেকে ৫৭ টাকা, অথচ প্লাস্টিকের বস্তা পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে খরচ বাঁচাতে তারা প্লাস্টিকের বস্তাই বেছে নিচ্ছেন।
পাটের বস্তা সরবরাহকারীরা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন। তাদের দাবি, পাটের বস্তার সহজ প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করলে ব্যবসায়ীরা এদিকে ঝুঁকবেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে প্রচারিত সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলিথিন ব্যাগ ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি ডব্লিউপিপি মোড়ক মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে এবং শত বছরেও পচে না। অপরদিকে, পাটের বস্তা বারবার ব্যবহারযোগ্য, সহজে পচনশীল, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। পরিবেশবিদরা মনে করেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার শুধু পরিবেশ নয়, কৃষিজমির উর্বরতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

জেলা পাট উন্নয়ন অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৫ মাসে মাত্র ৯টি প্লাস্টিক বস্তা বিরোধী অভিযানে ১০টি মামলায় ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অজিত কুমার রায় বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাত করা সরকারি আইন লঙ্ঘন। প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই।

স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের দাবি সোনা মসজিদ স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে যে চাল আমদানি করা হয় সেটা প্লাস্টিকের বস্তায় আনা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান, চালকল মালিকদের পাটের বস্তা ব্যাবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা যদি আইন না মানে, তবে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।