বাঘায় জমে উঠছে পাটের বাজার

আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মাঠে মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো, শুকানো এবং বিক্রি করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাট উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার পাট চাষে মোটামুটি অনুকূল আবহাওয়া ছিল। কিন্তু শুরুর দিকে কোনো কোনো স্থানে বেশি বৃষ্টিপাতে কিছু রোপন করা পাট নষ্ট হয়েছিল। বর্তমানে পাট কাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছড়ানো এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাট উঠতে শুরু করেছে।
বাউসা আমরপুর গ্রামের পাটচাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে লাঙ্গল, বীজ সেচ, কাটা, পরিস্কার করা, সারসহ যাবতীয় খরচ হয় সাড়ে ১০-১২ হাজার টাকা। এবার উৎপাদন হচ্ছে ১০ থেকে ১২ মণ। জমিতে পানি থাকায় পাটগাছ কাটা শ্রমিকদের অনেক বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাটের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০০ পাটের আঁশ ছড়ালে শ্রমিকরা ২৫০-৩০০ টাকা পাচ্ছেন। প্রতিদিন একজন শ্রমিক ৩৫০-৪৫০টি পাটের আঁশ ছোড়াতে পারে।
পাটের ফড়িয়া ব্যবসায়ী দিঘা গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, এই এলাকার চাষিরা খুব একটা যত্ন নিয়ে পাট ধোয়ার কাজ করে না। এতে করে অন্য জেলার পাটের মানের চেয়ে আমাদের পাটের মান ও রং ভালো হয় না।
বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের মকসেদ আলী বলেন, শুক্রবার দিঘা হাটে ভ্যানে করে ৬ মণ পাট বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এরমধ্যে ভ্যান খরচ ও খাজনা খরচ দিতে হয়েছে। তবে পাটের চাহিদা আছে। বিক্রি করতে কোন ঝামেলা পড়তে হয়নি। এই এলাকার পাটের মান ভালো না হওয়ার কারণে দাম তুলনামূলক কম পায় চাষীরা।
পাট সংরক্ষণকারী দিঘা গ্রামের ব্যবাসায়ী আজিজুল হোসেন বলেন, পাট কিনতে শুরু করেছি। পাটের দাহিদা আছে। অন্য এলাকায় পাট কম চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে স্থানীয়ভাবে পাটকল। এছাড়াও বিভিন্ন মোকামে পাটের টান রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পাটের জমিতে কিছু পানি থাকলে আঁশের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে অপরিপক্ক পাট কাটলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। বর্তমান বাজারে ওঠা পাট হয়তো পরিপক্ক হওয়ার আগে কাটা হয়েছে ফলে ফলন কিছুটা কম হচ্ছে। এ উপজেলা ৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ৩ পয়েন্ট ৬৫ মেট্টিকটন। উপজেলায় মোট উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৬৫৮ মেট্টিকটন।