রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভিক্ষার অর্জিত দেড় লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেয়নি তারা!

WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
ভিক্ষার অর্জিত দেড় লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেয়নি তারা!
ভিক্ষার অর্জিত দেড় লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেয়নি তারা!

মোহনপুর প্রতিনিধি:


শারীরিক প্রতিবন্ধী ছবি খাতুন। ভিক্ষা করেন-রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে। সেই ভিক্ষার অর্জিত দেড় লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেয়নি খালাতো ভাইয়েরা। এনিয়ে ভুক্তভোগির মা লতিফা বিবি বাদি হয়ে মোহনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে অভিযুক্তরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন- টাকা পাওয়ার কোন প্রমাণ নেই। আর তারা জমি বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে যে টাকা পেত তা তারা (ছবির মা) নিয়ে গেছে।
অভিযোগকারী লতিফা বিবি (৫২) প্রতিবন্ধী ছবি খাতুনের মা। লতিফার স্বামী মৃত রফাতুল্লাহ্ মন্ডল। তারা মোহনপুর উপজেলার তাহেরপুর পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হলেও থাকেন নগরীর কোর্ট ভাটাপাড়ায়। আর অভিযোগের বাদি ও বিবাদি সম্পর্কে খালা ও বোনের ছেলে।

মোহনপুর থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- ২০০৫ সালে প্রতিবেশী মো. আব্দুর রাজ্জাক (৩০), মো. মাসুদ রানা (২৯) এবং মোছা. সানোয়ারা বিবিকে ব্যবসার কথা বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনমাস পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ ২০ বছরেও তারা সেই টাকা পরিশোধ করেননি। ধার দেওয়া টাকা ফিরে পাওয়ার দাবিতে তারা থানায় অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ছবি খাতুনের মা লতিফা বিবি জানান, ‘বারবার টাকা চাইলে বিবাদিরা কালক্ষেপণ করেন। বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা টাকা ফেরত দেননি। তাদের টাকা দেওয়া হয়েছে, এটা এলাকার অনেকেই জানে। ছবির ভিক্ষা ও নিজের জমা করা টাকাগুলো ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপোষের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি।’

টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘লতিফা টাকা পাওয়ার বিষয়ে যদি কোন প্রমাণ দেখাতে পারে আমি তার টাকা পরিশোধ করব। আসলে সে আমার থেকে জমি কন্ট্রাকের (বন্ধক) ৬ হাজার টাকা পেত। রাজশাহী থেকে তিনজন লোকসহ আমার দোকানে এসে টাকা নিয়ে চলে গেছে। তিনি বারবার থানায় অভিযোগ করে আমাকে হয়রানি করছে।’

এ বিষয়ে জাহানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বাদী লতিফা বেগমের বোন, বিবাদী রাজ্জাকের মায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই টাকার বেশিরভাগই পরিশোধ করা হয়েছে। এখনো প্রায় ৫ হাজার টাকা বকেয়া আছে। আর যেই সময়ে টাকার লেনদেন হয়েছিল, তখন রাজ্জাকের বয়স মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর।’

এ বিষয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি পাওয়ার পর ওই গ্রামে কয়েকবার গিয়েছি। বিবাদি থানায় আসছিল বাদিকে আসার জন্য অনেকবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বাদি থানায় না এসে বলে, আপনি তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দিন; আমি আসতে পারব না। বাদি থানায় এসে পুলিশকে সহযোগিতা না করায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’