রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ : পা দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাই

WP Import ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৫ অপরাহ্ন
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ : পা দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাই
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ : পা দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাই

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


হাত দিয়ে টেনে তুললে খসে আসছে পাকা সড়কের পিচের ঢালাই (কার্পেটিং)। এমনকি পা দিয়ে ঘষা দিলেও উঠে আসছে এ ঢালাই। সদ্য নির্মিত রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার তিওড়কুড়ী থেকে পাঁচবাড়ি হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নবনির্মিত চার কিলোমিটার এ পাকা সড়কটির এই দূরাবস্থা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টম্বর) সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের দুই দিন যেতেই হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে পিচের ঢালাই। সড়কটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযো তোলেন তারা। নি¤œমানের বিটুমিন, ইট ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সড়কটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানান হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার তিওড়কুড়ি হতে পাঁচুবাড়ী হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪.২৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজটি পায় চিটাগাং এলাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওয়াসিম হোসেন। গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি সেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি আবারো সময় বাড়িয়ে নেয়। যা ছিলো চলতি সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত। তবে পরবর্তি সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি করেছে কাজে অনিয়ম। ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৬ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকৃত এ সড়ক দুই দিনের মাথায় খসে যাচ্ছে পিচ ঢালাই।

স্থানীয়রা জানান, গত ৭ সেপ্টম্বর সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। সড়ক নির্মাণে ইট, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে নি¤œমানের । সড়ক পরিষ্কার না করেই অপরিষ্কার অবস্থায় পিচ ঢালাইয়ের কারণে সেগুলো উঠে যাচ্ছে। হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে পিচ ঢালাই। দুই দিন পার হয়ে গেলেও পিচ ও খোয়া জমাট বাঁধেনি। এমনকি পা দিয়ে ঘষা দিলে উঠে যাচ্ছে ঢালাই। সরেজমিনে গিয়ে সড়কটির এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। এসময় স্থানীয়রা পুনরায় এ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।

পথচারি প্রফেসর ইয়াসিন আলী বলেন,‘ রাস্তায় ঠিকমত পিচ দেয়নি। এই রাস্তা ১বছর টিকবে না। একটা যদি বৃষ্টি হলে এই রাস্তা টোটালি নষ্ট হয়ে যাবে।’
ভ্যান চালক আবু বক্কর বলেন, ‘সরকার সড়ক নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। আর ঠিকাদার অতি লাভের আশায় কাজের মান খারাপ করেছেন। সড়ক পরিস্কার করার পরে কোনো প্রকার পিচ দেয়নি। পিচ না দিয়েই সড়কে পিচ ঢালাই করেছে। যার কারণে দুইদিন না যেতেই সব উঠে যাচ্ছে। এমন সড়ক করার চেয়ে না করায় ভালো। আগেই এর চেয়ে ভালো ছিলো।’
সড়কের পাশে এক প্রতিবেশি আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, ‘পা দিয়ে ঘষা দিলেই পাথর উঠে যায়। এমন সড়ক এর আগে কখনো দেখিনি। পিচ ঢালায়ের সময় ভালো করে রোলার দিয়ে ডলাও দেয়নি। ঠিকাদারা তাদের ইচ্ছেমত কাজ করে চলে গেছে।’

আরেক প্রতিবেশি মাসুদ রানা জানান, ‘ঠিকাদার খুব তড়িঘড়ি করে কাজ শেষে করে চলে গেছে। এ কাজ চলার সময় উপজেলা থেকে একজন কেউ দেখিনি। ফলে ঠিকাদার তাদের ইচ্ছেমত দায়সারা কাজ করে চলে গেছে। সাধারণ ভ্যান গাড়ি যাওয়ার সময় চাকা দেবে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পিচের ঢালাই উঠে যাচ্ছে। এ সময় কয়েকজন রাস্তায় হাত দিলে পিসের ঢালাই উঠতে থাকে। এমন রাস্তা জীবনেও দেখিনি।’

স্থানীয় এক ঠিকাদার জানান,‘পাকা সড়কের পিচ হাত বা পা দিয়ে সহজেই উঠে আসার কারণ হলো, রাস্তা তৈরির সময় পিচ বা অ্যাস্ফাল্ট ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি বা নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে এর স্থায়িত্ব কমে গিয়ে সহজেই ঢালাই খসে পড়ে। এছাড়াও সঠিক অনুপাতে পাথর, বালি এবং বিটুমিন মেশানো না হলে রাস্তার উপরের স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খসে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।’
এদিকে, এবিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক-ই মোহাম্মদ বলেন, আমার জানা মতে সড়কটির কাজ ঠিকাদার ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। সড়কটির কাজ খারাপ করার সুযোগ নেই। এরপরেও ল্যাব টেস্ট শেষ হলে যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব।
রাজশাহী জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিআইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার নজর এসেছে, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাস্তাটি কোন ত্রুটি ধরা পড়লে তা পুনঃনির্মাণ করা হবে।