নগরীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম এলাকায় পৈত্রিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ছিঁড়ে ফেলে।
এতে বাড়ির মালিকের ছেলে ও দুই বোন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীর ছেলে জাহিদ হাসান রাকেস।
সংবাদ সম্মেলনে রাকেস অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জয়ের পরিবার এই জমির মালিকানা দাবি করছে। তাই জয়, মেরাজ, দুলাল ও সুজনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। জমি নিতে ব্যর্থ হয়ে চক্রটি বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয় তারা।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এসিল্যান্ড অফিস থেকে একটি তদন্ত দল তাঁদের জমি পরিদর্শন করে। তদন্ত দল চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই চক্র তাঁর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
রাকেস বলেন, “হামলাকারীরা আমার বাড়িতে ঢুকে সোনাদানা ও নগদ টাকা লুট করে। তারা দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং সিসি ক্যামেরাও নষ্ট করে ফেলে। হামলার সময় আমার ছোট ভাই ও দুই বোনকে তারা মারধর করে গুরুতর আহত করে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রেজাউল ইসলাম বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার এখন চরম হুমকির মুখে আছি। তারা আমাদের হত্যা করে জমি-সম্পদ আত্মসাতের ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাংবাদিক সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাষ্ট্রের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, জমি সংক্রান্ত মামলার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। “আমরা আইন মেনে চলছি, অথচ তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের হয়রানি করছে,” বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জয়কে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।