ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে রাকসুতে নির্বাচন করবেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো দ্বীপ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দ্বীপ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত
রাবি প্রতিবেদক:
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো দ্বীপ মাহবুব। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ছাত্রশিবিরের প্যানেল ঘোষণার পর দ্বীপ মাহবুবের নাম দেখে অবাক হন অনেকেই।
দ্বীপ মাহবুব বিশ্বিবদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলকালে নিজ জেলা পাবনাতে ৪ আগস্ট একটি চোখে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর থেকে আর ওই চোখে দেখতে পাননা তিনি। পাশাপাশি মনোননয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর কথা হয় দ্বীপ মাহবুবের সঙ্গে। ছাত্রশিবিরের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে রাকসু একটি দিবা স্বপ্নের মতো ছিল৷ আমরা দেখেছি বিগত সময়গুলোতে কীভাবে দখলদার বাহিনী গণতান্ত্রিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে৷ আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আমি স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচনে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু যখন ছাত্রশিবিরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি, তখন তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও গুণাবলি আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এজন্য ফলে আমি তাদের ইনক্লুসিভ প্যানেলে যোগদান করেছি।
নিজের আহত বিষয়ের তিনি বলেন, গতবছর ৪ আগস্ট আমরা পাবনা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। এমন সময় জনসম্মুখে সাউন্ড গ্রেনেড এসে পড়ে। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তখন আমি ও আমার বন্ধুরা সেখানেই ছিলাম। এসময় যে যার মতো করে পালাচ্ছিল। আমি পালাতে না পেরে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি দেখলাম আমার পাশেই দুইজন পড়ে গেল। তখন আমি একটু সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এসময় কিছু একটা (সেটি ছিল ব্ল্যাকরেঞ্জ থেকে ছোড়া একটি বুলেট) এসে আমার চোখে লাগে এবং আমি চোখ ধরে পড়ে যাই। তারপর আমার বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যায়। পরে জানতে পারি চোখে গুলি লেগেছিল। যার ফলে আমার শরীরের বাম অংশ আংশিক প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং আমি আমার ডান চোখ হারাই।
দ্বীপ আরও বলেন, নির্বাচিত হলে নিজের পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আশা করবাে, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে সবাই যে পরিবেশ পেয়েছি, সেটায় আমরা একটু নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবাে এবং এই দেশে গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত থাকবে৷ নির্বাচিত হলে আমি শিক্ষার্থীদের যে ন্যায়ের জন্য লড়েছি, সেটাই অব্যাহত থাকবে এবং তাদের কন্ঠস্বর হয়েই আমরা কাজ করবো।