’রাবিতে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে’ মন্তব্য, ছাত্রদল নেতার প্রতিউত্তর পায়নি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি
রাবি প্রতিবেদক:
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানের “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে” মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল রাবি’র বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। প্রতিবাদের পাশাপাশি অবিলম্বে এই অভিযোগের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে ছিল তাঁরা, অন্যথায় এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি ছিল তাদের।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এই প্রতিবাদ জানানোর পর প্রায় একদিন পেরিয়ে গেলেও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রতিউত্তর দেয়নি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। প্রতিউত্তর না পেলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন জোটটির অন্যতম শরীক দল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদুল ইসলাম ভুইয়া রাতুল।
রাতুল বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিউত্তর পাইনি। এই অভিযোগের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে বা দুঃখ প্রকাশ না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিবো।”
এবিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, “কেউ কোনো প্রতিবাদলিপি দিয়েছে বলে আমি জানি না। খোঁজ নিতে হবে তাহলে।”
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন রাতে জোটের পক্ষে রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই ধরনের অস্পষ্ট অভিযোগ কেবল বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং নানামুখী মহলে অযাচিত প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ না করে ঢালাওভাবে ‘বাম’ শব্দটির ব্যবহার সকল বাম সংগঠনকে অভিযুক্ত করছে। যা আমাদের জন্যে মানহানিকর। আমরা এইধরনের অস্পষ্ট অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাই।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা স্পষ্ট ভাবে জানাতে চাই গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ৬টি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত লড়াই সবসময় ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র ও দমননীতির বিরুদ্ধে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে আমরা কখনো, কোনোভাবে জামাত-শিবিরসহ কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথেই আপোস করিনি এবং করবোও না।”
দাবি জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমরা আমান উল্লাহ আমানসহ ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি। যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, নাম-পরিচয়সহ উল্লেখ করতে হবে। গণহারে ‘’বাম সংগঠনে শিবির ঢুকে গেছে” বলা অসত্য, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর। আমরা মনে করি, এই ধরনের মন্তব্য ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। আমরা অবিলম্বে এই বিভ্রান্তিকর অভিযোগের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি, অন্যথায় এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটে ছয়টি ছাত্র সংগঠন রয়েছে। দলগুলো হলো- সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র গণমঞ্চ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।