নগরীতে সিডও দিবসে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
শুক্রবার (০৫ সেপ্টেম্বর) আর্ন্তজাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে বরেন্দ্র কলেজে বিকাল ৪ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদে নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক নিলুফার আহমেদ। সভাটির সঞ্চালনায় ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমা খাতুন।
অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনা করেন প্রশিক্ষন সম্পাদক সেলিনা বানু,লিগ্যাল এইড সম্পাদক শিখা রায়।
আলোচ্য বিষয় ছিল- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ও ঘোষণা পত্র ও গঠনতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত ধারণা ও নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) ।
আন্তর্জাতিক সিডও দিবস। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হয়। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই আন্তর্জাতিক সনদ সিডও-কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশে সিডও বাস্তবায়ন আন্দোলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
বর্তমানের সংকটজনক পরিস্থিতিতে সিডও সনদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সমুন্নত রাখতে প্রতিবছরের ন্যায় ¬¬¬¬এবারও “নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় চাই অভিন্ন পারিবারিক আইন। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন।
এই সভায় সিডও সনদের ভিত্তিতে রয়েছে তিনটি মূলনীতি- বৈষম্যহীনতা, প্রকৃত সমতা এবং রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা। বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে নারীর মানবাধিকার রক্ষা এবং নারী পুরুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য বৈষম্যমূলক আইন বাতিল, নতুন আইন প্রণয়ন এবং আইনি সমতার পাশাপাশি নারীদের জীবনে প্রকৃত সমতা আনতে ইতিবাচক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সিডওতে নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকারসহ ব্যাপক পরিসরে নারীর মানবাধিকার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
সভাপতি এই সভায় সিডও সনদের ধারা ২ এর ১৬-১ (গ) এর পূর্ণ বাস্তবায়ন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অত্যন্ত গরুত্ব দিয়ে ১৬-১ (গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে বিয়ে এবং বিয়ে বিচ্ছেদ সমানাধিকার ও সমদায়িত্ব,সর্বোপরি সম্পদ-সম্পতিতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রনয়ণের জন্য সুপারিশ করেন। তিনি আরো বলেন নারী আন্দোলন বিশ্বাস করে, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র-সমাজ গড়ার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয় এবং এরই পূর্বশর্ত সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।