বিদেশি অপরাধীদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

সোনার দেশ ডেস্ক
বিদেশি অপরাধ চক্রকে প্রয়োজনে বোমা মেরে উড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইকুয়েডর সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব অপরাধী চক্রের সন্ধান পেতে অন্য রাষ্ট্র আমাদের সহায়তা করবে। তাদের দমনে দরকার হলে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ইকুয়েডরের বৃহত্তম দুটি অপরাধগোষ্ঠী লোস লোবোস এবং লোস কোনেরোসকে শিগগিরই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।
সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ করতে পারবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নেওয়ার মতো গোয়েন্দা তথ্য ইকুয়েডর সরকারকে অবাধে সরবরাহ করতে পারবে।
ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদকবাহী এক নৌকায় মার্কিন বাহিনীর হামলা চালানোর পর এ হুঁশিয়ারি দেন রুবিও। হোয়াইট হাউজের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ১১ জন নিহত হন এবং তারা সবাই ভেনেজুয়েলাভিত্তিক অপরাধগোষ্ঠী ত্রেন দে আরাহুয়ার সদস্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ইশারায় ওই গোষ্ঠী পরিচালিত হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ওই অভিযানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দাবি করে, ভেনেজুয়েলার দুটি সামরিক বিমান মার্কিন একটি জাহাজের কাছে উড়ে গিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করেছে এবং আমাদের মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে ভেনেজুয়েলা এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে, মেক্সিকো এবং ইকুয়েডরের মতো মিত্রদেশের পাচারকারীদের ওপরও একতরফা প্রাণদণ্ড কার্যকর হবে কিনা – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সরকারের সঙ্গে এমন ঘটনা হয়ত ঘটবেই না, কারণ তারাই উল্টো আমাদের সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহযোগী সরকার মার্কিন প্রশাসনকে সহায়তা করবে। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ওই চক্রগুলো তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে এবং তিনি এখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চান। অথচ কেউ যথাযথ সাড়া দেয়নি।
একই দিনে রুবিও ঘোষণা দেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইকুয়েডরকে এক কোটি ৩৫ লাখ ডলার নিরাপত্তা সহায়তা এবং ৬০ লাখ ডলারের ড্রোন প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি মেক্সিকো ও ইকুয়েডর সরকার।
অবশ্য, লস লোবোস ও লস চোনেরোসকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির পদক্ষেপটি চেয়েছিলেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া। এসব অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে তার সরকারের পরিচালিত অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেন। এ বছরের শুরুর দিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই গোষ্ঠীদুটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করলে তিনি খুশি হবেন।
নোবোয়া আরও বলেছিলেন, তার এই যুদ্ধে মার্কিন ও ইউরোপীয় বাহিনীর অংশগ্রহণ চান।
বলে রাখা ভালো, তিনি ইকুয়েডরের সংবিধান পরিবর্তন করে দেশটিতে আবার বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পথ তৈরির চেষ্টা করছেন। দেশটিতে সর্বশেষ বিদেশি সেনা ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, যা ২০০৯ সালে বন্ধ হয়ে যায়।
গত কয়েক বছরে ইকুয়েডরে সহিংসতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, কোকেন পাচারের লাভজনক রুট দখল নিতে অপরাধচক্রগুলোর মধ্যে লড়াই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়া ও পেরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে পৌঁছানো কোকেনের প্রায় ৭০ শতাংশই ইকুয়েডর দিয়ে পাচার হয়।
ইকুয়েডরে মাদক চক্রের সহিংসতা দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী অভিবাসনও বাড়িয়েছে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্টেলগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করলে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এর প্রভাব অনিশ্চিত। একদিকে এটি তাদের সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে পরিচিত হতে পারেন, আবার অন্যদিকে যারা এসব গোষ্ঠীকে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা সন্ত্রাসে অর্থায়নকারী হিসেবে শাস্তির ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন