রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব বাতিলসহ ৩ দাবি

WP Import ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
WP Import ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১১টার পর হলে ফেরায় তাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব বাতিল করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে ওই হলের ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুলাই ৩৬ হলের ছাত্রীদের পক্ষে ৯ ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের কাছে এসব দাবিতে লিখিত আবেদন জানান।

তাদের দাবিগুলো হলো- কটূক্তিকারী শিক্ষার্থী মিলনের স্থায়ী বহিষ্কার, সাইবার বুলিং প্রতিরোধে লিগ্যাল সেল গঠন ও কার্যকর করা এবং ফেসবুকে অশালীন মন্তব্যকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।

সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি প্রার্থী ও জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রেঁনেসা রাত্রী বলেন, “গোপনীয়তা না মেনে নাম প্রকাশ করে নোটিশ ঝুলিয়ে হল প্রশাসন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সবার সামনে এনেছে। ফলে আমরা প্রতিনিয়ত স্লাট শেমিং ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “মিলন নামের একজন ছাত্রদল নেতা সরাসরি আমাদের ‘যৌনকর্মী’ আখ্যা দিয়েছেন। আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারসহ সাইবার বুলিং রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, তবে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আবার আন্দোলনে নামব।”

আরেক শিক্ষার্থী তাবাসসুম সুপ্তি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মননশীলতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ থাকার কথা, কিন্তু এখানে উল্টো সাইবার বুলিং ও স্লাট শেমিং বাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীরা নিয়মিত এ ধরনের বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। রাকসু নির্বাচনে প্রায় ১৪ হাজার নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ৫০ জন নারীও প্রার্থী হননি; যেটির অন্যতম কারণ এমন সাইবার বুলিং।”

অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “গত সপ্তাহে একটি সাইবার সেল গঠন করা হলেও তা কার্যকর হতে সময় লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ ও গ্রুপের অ্যাডমিনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।”

এর আগে, গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে জুলাই ৩৬ হল প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ছাত্রীদের মধ্যে যারা দেরিতে (রাত ১১টার পর) হলে ফিরেছেন তাদের মধ্যে ক্রমিক নম্বর ১ থেকে ৪৫ পর্যন্ত মঙ্গলবার এবং ক্রমিক নম্বর ৪৬ থেকে ৯১ পর্যন্ত বুধবার বিকাল ৪টায় প্রাধ্যক্ষের অফিসে উপস্থিত থাকবেন। যদিও পরে সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোটিসটি প্রত্যাহার করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি তাদের ফেইসবুক পেইজে এ খবর দিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপে একটি ক্যাপশন দিয়ে ফটোকার্ডটি শেয়ার দেন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম তুহিনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান মিলন ওই ফটোকার্ডের পোস্টে মন্তব্য করেন, “এগুলো ছাত্রী নয়, এগুলো বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী।”

মিলনের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। এরপর রাতেই মিলনের পদ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। একই দিন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বাদী হয়ে নগরের মতিহার থানায় একটি মামলাও করেছেন সদ্য বহিষ্কৃত ওই নেতার বিরুদ্ধে।