রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবলের সঙ্কট, তানোরে মহানগর ক্লিনিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

তানোর পৌর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে চিকিৎসক ও জনবলের অভাব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছিল মহানগর নামের একটি ক্লিনিক। মানহীন চিকিৎসা ও ভুল অপারেশনে রোগীর ক্ষতির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান। এক মাসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবল দেখিয়ে ক্লিনিক পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, মানহীন চিকিৎসার জন্য জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা অর্থদ- আদায় করা হয়েছে। আর এক মাসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবল দেখিয়ে ক্লিনিক পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। অপচিকিৎসা ও অনুমোদিত কার্যক্রমে আমরা কোনো ছাড় দেব না। জনস্বাস্থ্য নিয়ে খেলা চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান ইউএনও।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আয়া নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অপারেশন থিয়েটারে ছিল না প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবল। নোংরা ও অনিরাপদ পরিবেশে চালু ছিল অপারেশন থিয়েটার। এমন পরিবেশে ১১ জুলাই এক নারীর অ্যাপেন্ডিক্সেও একটি ভুল অপারেশন করা হয়। এসব অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ক্লিনিক মালিকের দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

প্রসঙ্গত, তানোরের আকচা গ্রামের রোজিনা খাতুন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের একটি অপারেশন করে মহানগর ক্লিনিক। এরপর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুনরায় তানোর মহানগর ক্লিনিকে গেলে রোজিনাকে সাপোজিডার দিতে বলে। পরে তার অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তারের কথা মতো বিভিন্ন ধরণের টেস্ট করে দেখা যায় তানোর মহানগর ক্লিনিকের অপারেশন সম্পূর্ণ ভুল ছিল।

ওই অপারেশনের সময় দেখা যায় তানোর মহানগর ক্লিনিক ভুল চিকিৎসার পাশাপাশি তার কিডনির ক্ষতি হয়েছে। এজন্য নতুন করে তার শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভুল অপারেশনে তার ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে থানায় এক অভিযোগে উল্লেখ করেন রোজিনা। পরবর্তীতে ক্লিনিক মালিক হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে বসে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু ক্লিনিক মালিক টাকা না দিতে টালবাহানা করেন। রোজিনা খাতুন ৩১ আগস্ট সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।
এনিয়ে তানোর মহানগর ক্লিনিকের প্রোপাইটার হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায় নি।