রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

শিবিরের বট আইডির বুলিংয়ের কারনে নারীরা ছাত্রদলে আসার সাহস পাচ্ছে না: আমান

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪২ অপরাহ্ন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান। ছবি: সংগৃহীত

রাবি প্রতিবেদক:


শিবিরের বট আইডির বুলিংয়ের কারনে নারীরা ছাত্রদলে আসার সাহস পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন আমতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। রাবি শাখা ছাত্রদল এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

আমানুল্লাহ আমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটিমাত্র ক্যাম্পাস, যেটি দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সংষ্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে একটি বিশেষ সংগঠন দুই-তিনটি লেয়ারে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। এই ক্যাম্পাসের ৬টি মেয়েদের হলের প্রভোষ্টরা ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন।

তিনি বলেন, কমিটি দেওয়ার সময় মেয়েদের হলগুলোতেও যথেষ্ঠ সংখ্যক নেতৃত্ব ও কর্মী আমাদের ছিলো। কিন্তু, আমরা লক্ষ্য করলাম, যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে, তাদের বুলিং করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের বোনেরা সবাই রিস্ক নিতে পারে না। যারা সম্মুখ সারিতে মিছিল মিটিং করেছে এই সাহসটুকু বুলিংয়ের কারনে সবাই পায় না, সবার পরিবার থেকেও অনুমতি দেওয়া হয় না। যার কারনে মেয়েদের হলগুলোতে এখনো কমিটি দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও আমার যেসকল বোনেরা লড়ছে তারা প্রকৃত অর্থে সাহসী। আমি মনে করি, দেশের সবচেয়ে সাহসী নারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে। বুলিংয়ের কারনে অন্যরা সাহস পাচ্ছে না।

শিবির প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি ক্যাম্পাস যেখানে বামদের মধ্যে শিবির ঢুকে গেছে। তারা অন্য সংগঠনের পদ নেবে কিন্তু তারা শিবির নেতা। পৃথিবির অন্য কোনো দেশে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এমন নজির নেই। ৫ আগস্টের যত নারী বুলিংয়ের শিকার হয়েছে, কমেন্ট সেকশন থেকে তাদের আইডির ঘেটে দেখলেই বোঝা যায় তারা কোন আদর্শে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে যত জনসংখ্যা আছে তার থেকেও শিবিরের বট আইডির সংখ্যা বেশি।

বট আইডির বুলিংয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মুঠোফোনে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারন সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে কোনো তথ্য প্রমাণ থাকলে তিনি সেগুলো সবার সামনে আনুক। প্রয়োজনে, আইনি পদক্ষেপ গ্রুহণ করুক। কিন্তু, মনগড়া বক্তব্য কিংবা দায় দিয়ে দেওয়া রাজনীতি মোটেও কাম্য নয়। বরং ওনার অভিযোগ বাস্তবে আমরা ছাত্রদলের মধ্যে দেখতে পাই। মেয়েদের বুলিং, ট্যাগিং, বডি শেমিং থেকে শুরু করে বিরোধী পক্ষকে কটাক্ষ করা এবং নিজ দলের পক্ষে ন্যারেটিভ দাড় করানোর জন্য শুধু জিয়া বট ফোর্সের সদস্যরাই নয়, ভিয়েতনামী, শ্রীলংকা, মালেশিয়ান আইডিও দেখতে পাই’।

হলের প্রভোষ্টরা ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য ছাত্রীদের চাপ প্রয়োগ করে থাকেন এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক শারমিন হামিদ বলেন, ‘অভিযোগটি পুরোপুরি সত্য নয়। কোনো কোনো হল হতে পারে। তবে, সবগুলো হলে হয়েছে, এটা আমি কখনোই মানতে পারবো না। এটা একদমই অসত্য, অযৌক্তিক কথা’।
নির্দিষ্ট কোন হলে হতে পারে বলে মনে করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার হল সম্পর্কে যতটা ভালো জানি, অন্য হল সম্পর্কে তেমন ভালো জানি না। আমি যেটা শুনেছি, সেটার প্রমান ছাড়াই বলাটা ঠিক হবে না। যদি আমি প্রমাণ পেতাম, তাহলে আপনাকে বলে দিতাম অমুক হলে হয়েছে’।

বাম সংগঠনগুলোর মধ্যে শিবির ঢুকে গেছে এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাম সংগঠনের জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের’ সংগঠক ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে মোটামুটি আটটা বাম ও বামঘেঁষা ছাত্র সংগঠন সক্রিয় আছে। ছাত্রদলকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে সুনির্দিষ্ট কোন বাম সংগঠনে শিবির ঢুকেছে। অন্যথায়, এই ধরনের ঢালাও অপবাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই’।