নওহাটায় ৪ হাজার ৭৯২ জন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য টিসিবি স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকার ঘোষিত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) স্মার্ট কার্ড সক্রিয়করণ ও বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৪ হাজার ৭৯২ জন সুবিধাভোগী ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন, যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে অনেকটা স্বস্তি দেবে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভা পুরাতন ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নওহাটা পৌর প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন,“সরকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে টিসিবি স্মার্ট কার্ড অন্যতম। এ কার্ডের মাধ্যমে মানুষ সাশ্রয়ী দামে বরাদ্দ অনুযায়ী ভোজ্যতেল, আটা, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে, যা তাদের জীবনে স্বস্তি আনবে।”
তিনি আরও বলেন,“কার্ড বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি যাতে না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রতিটি সুবিধাভোগীর তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।”
নওহাটা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৪ হাজার ৭৯২ জন সুবিধাভোগী এ কার্ড পাবেন। এসব কার্ডের মাধ্যমে মাসে অন্তত একবার সরকার নির্ধারিত ভর্তুকিমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ থাকবে। পণ্যের তালিকায় রয়েছে ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, চিনি, ছোলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। পৌরসভা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান,“টিসিবি কার্ডধারীরা নির্ধারিত সময়ে এসব পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। বরাদ্দ অনুযায়ী সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা সাধারণ বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। এতে নিম্নআয়ের মানুষের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে।”
চলমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা দিলিপ কুমার বলেন,“বাজারে জিনিসপত্রের দাম দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। আয় একই থাকলেও খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে যদি নিয়মিত পণ্য পাওয়া যায়, তাহলে অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলবে।”আরেকজন সুবিধাভোগী মনোয়ারা খাতুন বলেন,“প্রতিদিনের বাজারে গেলে মনে হয় সবকিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর কর নির্ধারক হাবিবুর রহমান, প্রধান সহকারী নূরুল ইসলামসহ পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।