রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাবি’র ৯১ ছাত্রীকে যৌনকর্মী দাবি, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৪ অপরাহ্ন

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলে রাত ১১টার পর প্রবেশ করা ৯১ ছাত্রীকে নিয়ে এক ছাত্রদল নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদ ও তাঁর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-৩৬ হলের ছাত্রীরা। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

এসময় তাঁরা ‘ইভটিজারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘নারীদের বুলিং করে, প্রশাসন কি করে?’, ‘ইভটিজারের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ থেকে ছাত্রীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবি তিনটি হলো- ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান মিলনের স্থায়ী বহিষ্কার, মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে; সাইবার বুলিং সেল গঠন করতে হবে এবং ফেসবুকে যাবতীয় অশালীন মন্তব্যের জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে এক ছাত্রী বলেন, ২০২৫ সালে এসেও নারী নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র সাইবার বুলিং এর ভয়ে নারীরা রাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে দ্বিধাবোধ করছে। প্রতিনিয়ত নারীদের সাইবার বুলিং এর শিকার হতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে রহমাতুন্নেছা হলের ছাত্রীদেরকে সাইবার বুলিং এর শিকার করা হয়েছে। আজকে জুলাই ৩৬ হলের ৯১ জন ছাত্রীকে সাইবার বুলিং এর শিকার করা হয়েছে। বাজেভাবে মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যে ছেলেরা সাইবার বুলিং করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন পরবর্তীতে এরকম কোনো কাজ করতে না পারে।

আরও পড়ুন: রাবি’র ৯১ ছাত্রীকে যৌনকর্মী বলা সেই ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার

ছাত্রদলের ওই নেতার নাম আনিসুর রহমান মিলন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই সময় ফেসবুক আইডি তাঁর ‘নিয়ন্ত্রণে ছিল না’। অভিযোগ ওঠার পর রাতে ওই নেতার পদ স্থগিতের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১১টার পরে হলে ফেরায় জুলাই ৩৬ হলের ৯১ ছাত্রীকে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তলব করে নোটিশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ওই বিজ্ঞপ্তির একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সমালোচনার মুখে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেয় হল প্রশাসন। ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘরে ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমানের আইডি থেকে ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী’ বলে মন্তব্য করা হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আজ দুপুরের দিকে আমার আইডির নিয়ন্ত্রণ আমার কাছে ছিল না। যার ফলে বিভিন্ন গ্রুপে আমাকে ছোট করার জন্য বাজে বাজে সব কমেন্ট করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’