সাংবাদিকের দায়িত্ব পালনে বাধা: ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কট রাবি’র ৩ সাংবাদিক সংগঠনের

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের কাজে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাম্পাসের তিন সাংবাদিক সংগঠন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু), রাবি সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস) এবং রাবি প্রেসক্লাব ছাত্রদলের সকল কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে এদিন দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনের সামনে আয়োজিত রাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি বয়কট করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। পরে এদিন বিকেলে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়ায় বয়কট কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
এর আগে সাংবাদিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেন, গত রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তি চলাকালে দায়িত্ব পালনে থাকা ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক মীর কাদিরের বুম কেড়ে নেওয়া হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে বাঁধা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতিকে জানানো হলেও কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেননি। এছাড়াও মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল নেত্রী এষার বক্তব্যের সময়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক কিছু সাংবাদিককে ‘কুলাঙ্গার সাংবাদিক’ বলে মন্তব্য করেন।
রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সোহাগ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আল জাবের আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যম স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ছাত্রদলের দায়সারা নিন্দা প্রমাণ করে তারা এবিষয়ে আন্তরিক নয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
রাবি সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস)-এর সভাপতি ইরফান তামিম ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যে বাধা দিয়েছে, তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন মাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের হুমকি ও ‘কুলাঙ্গার’ বলে গালি দেওয়া জঘন্যতম কাজ। ছাত্রদলের এ ধরনের কর্মকা- বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা ছাত্রদলের সব কর্মসূচি বয়কট করা হবে।
তিন সাংবাদিক সংগঠন একযোগে সতর্ক করে জানিয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলানো ও ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদলের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক চার সমন্বয়ক, বাগছাস, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দফায় দফায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদল কর্মী, শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীসহ অন্তত দশ জন আহত হয়।